শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে তিন ফসলি জমি বাঁচাতে ফসলি মাঠে পুকুর খনন বন্ধ ও ভরাটের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কৃষকেরা। ৩ এপ্রিল বুধবার দুপুরে উপজেলার গোজাকুড়া গ্রামে প্রায় শতাধিক কৃষকের অংশগ্রহনে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ওইসময় তারা সংসদ উপনেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর গাড়ীবহর থামিয়ে তাঁর কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল মান্নান মুন্নার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সেচ মালিক হীমাংশু রায় লিটন, হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনাল কিশোর মজুমদার, কৃষক সুনীল চন্দ্র শীল প্রমুখ।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে মুক্তাগাছা থেকে সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের গোজাকুড়া গ্রামে প্রায় ২০ একর তিন ফসলি আবাদি জমি ক্রয় করেন। এদিকে গত বছর থেকে তিনি আবাদি জমিগুলোতে গভীর পুকুর খনন করেন। এছাড়াও পুকুরের বিষাক্ত পানি ফসলি জমিতে ছেড়ে দেন। এতে আশপাশের অনেক কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এছাড়াও পুকুর গভীর হওয়ায় বোরো মৌসুমে কৃষি জমিতে পানি টিকে না। ফসলি জমির পাশে পানি চলাচলের তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় আমন মৌসুমে জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পুকরের পাড়ে গাছ এবং বেড়া দিয়ে পাকা গেইট তৈরি করায় সাধারণ কৃষক তাদের কৃষি জমিতে যাতায়াত ও ফসল আনা-নেওয়া করতে পারছেন না।
পরে কিছুদিন যাবত ওই ব্যক্তি নতুন করে আবার পুকুর খনন শুরু করলে কোনকরা ভুক্তভোগী কৃষকেরা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে প্রশাসন পুকুর খনন বন্ধের নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি পুকুর খনন অব্যাহত রাখেন ও পুকুরের বিষাক্ত পানি ফসলি জমিতে ছেড়ে দেন। পরে বুধবার দুপুরে স্থানীয় প্রায় শতাধিক কৃষক ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ ও ভরাটের দাবিতে মানববন্ধন করেন। ওইসময় সংসদ উপনেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরীর গাড়ীবহর থামিয়ে তার কাছেও লিখিত অভিযোগ দেন। পরে মতিয়া চৌধুরী সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, তিন ফসলি জমিতে এভাবে পুকুর খনন করলে আমরা আবাদ করবো কিভাবে।আমাদের জমিতে পুকুরের বিষাক্ত পানিও ছেড়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁর নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল বলেন, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হবে। বেআইনীভাবে ফসলি জমিতে কোন কাজ হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷




