রমজান মাসে টিসিবি’র বিতরণকৃত পণ্য তালিকায় চাল, তেল, চিনি, ডাল, খেজুর ও ছোলা বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও সরবরাহ না পাওয়ায় শেরপুরে গ্রাহকরা পাচ্ছেন না ছোলা ও চিনি। এতে হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ পড়েছেন বিপাকে। তাদের অভিযোগ, রোজায় ছোলা ও চিনি বেশি প্রয়োজন। অথচ ছোলা আর চিনিই নেই। ১৬ মার্চ শনিবার বিভিন্ন ইউনিয়নের টিসিবি’র বিক্রি’র সময় গিয়ে দেখা যায় এই চিত্র।

জানা যায়, শ্রীবরদী উপজেলায় ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে ১৭ হাজার ৪ শ ৮১ জন টিসিবি’র সুবিধাভোগী। এবার চলতি মাসে টিসিবি’র দুই লিটার ভোজ্য তেল, দুই কেজি মসুর ডাল ও পাঁচ কেজি চাল দেওয়া হলেও থাকছে না চিনি ও ছোলা। নির্ধারিত পণ্যগুলো যেন সঠিকভাবে মানুষের হাতে পৌঁছায়, তা তদারকি করতে জেলা প্রশাসকদের ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু।
তবে সরবরাহের অযুহাতে ছোলা বুট ও চিনি বিতরণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা এখনও ছোলা ও চিনি হাতে পাইনি। তাই এগুলো ছাড়াই বিতরণ হচ্ছে। সামনের ধাপে সংযুক্ত করা হবে।

শ্রীবরদী পৌরসভায় পণ্য নিতে আসা আলমাছ হোসাইন নামের এক ব্যক্তি বলেন, রোজা উপলক্ষে আমরা ভেবেছিলাম ছোলা ও চিনি পাবো। রোজাতে ছোলা এবং চিনি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে এই দুইটি পণ্যের দামও অনিয়ন্ত্রিত। যে সকল পণ্য লাগামহীন ও ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে সেই পণ্য যদি টিসিবির আওতায় না থাকে তাহলে লাভ কি। কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নে পণ্য আনতে যাওয়া জহুরা বেগম নামের এক বৃদ্ধা জানান, মনে অনেক কষ্ট নিয়ে ফিরে যাইতাছি। রোজাতে সন্ধ্যা বেলায় শরবত বানাতে চিনি ও মুড়ির সাথে ছোলা ছাড়া চলেনা। এই দুইটা জিনিসের দাম বেশি। তাই কিনতে পারছিনা। আমরা আশায় ছিলাম। এবার ছোলা ও চিনি পাবো। কিন্তু পেলাম না।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া নাজনীন বলেন, এবার রোজা থাকলেও বিতরণের জন্য ছোলা ও চিনি পাইনি। সরবরাহ পেলে বিতরণ করা হবে।




