শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউপি সচিব সৈয়দ জামান। অভিযোগটি গত ৪ এপ্রিল দায়ের করা হলেও গত চার মাসেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, চেয়ারম্যান জহুরুল হক সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে পরিষদের সকল কর্মকাণ্ডে গায়ের জোরে অনিয়ম-দুর্নীতি করে আসছেন। এলজিএসপি-৩ কর্মসূচি প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। আরএফ কিউ পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিকাদার নিয়োগ করে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান জহুরুল হক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নিজেই সকল কাজ বাস্তবায়ন করেন। এ ছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ বাস্তবায়ন করায় নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই তা ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁকাকুড়া আফতাবের বাড়ির সামনে রাস্তার ভাঙ্গা অংশে বক্সকালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ বাস্তবায়ন করায় নির্মাণ কাজ শেষ হতে না হতেই তা বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া অন্যান্য প্রকল্পগুলোর অবস্থা প্রায় একই ধরনের। অপরদিকে ২০২০-২১ অর্থবছরেও অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে একইভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব ব্যাপারে প্রতিবাদ করা হলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক সচিব সৈয়দ জামানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে।

কাংশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমুলক। সচিব সৈয়দ জামান জন্ম নিবন্ধনের অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছিল। আমি তা নিষেধ করলে তিনি আমার বিরুদ্ধে ওই মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




