রংপুর সংবাদদাতা : দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরেও নির্বাচনী প্রচার প্রচারা এখন তুঙ্গে। রংপুর ৬ টি আসনের মধ্যে দু’টি আসনে জাপা ও আওয়ামী লীগ প্রধানের নির্বাচনের অংশগ্রহনের কথা জোরেসোরেই শোনা যাচ্ছে। ওই ২ হেভিওয়েট প্রার্থীর পাশাপাশি জেলার ৬টি আসনে প্রায় ২ ডজনের বেশি প্রার্থী এখন মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারের পাশাপাশি তারা দলীয় মনোনয়ন পেতে লবিং-গ্র“পিং চালিয়ে যাচ্ছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোট শরিক জাতীয় পার্টি ৩টি আসন আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দিলেও আগামী নির্বাচনে ছাড় দিতে নারাজ জাপা। একক প্রার্থী দেওয়ার কথা ভাবছেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) : এ আসনে বর্তমান সাংসদ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল হোসেন শাহরিয়ার। এবারও তিনি এ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর সভাপতি মসিউর রহমান এ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে দলের হাইকমান্ডে লবিং শুরু করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান প্রামাণিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন উপজেলা সভাপতি শাহ মো. এরশাদুল হক ও সহ-সভাপতি মোকাররম হোসেন সুজন। এ আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে হারজিতের লড়াই হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
রংপুর-২ (বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ) : এ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ নেওয়াজ আলী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসানুল হক চৌধুরী ডিউক ও একসময়ের ছাত্রলীগ নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান বিশ্বনাথ সরকার বিটু। জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য আনিছুল ইসলাম মণ্ডল ও জাপার বহিষ্কৃত নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারও মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। বিএনপির উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তীও সভা-সমাবেশ ও এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রংপুর-৩ (সদর) : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই এ আসনে প্রার্থী। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে এগিয়ে রয়েছেন শিল্পপতি কাওছার জামান বাবলা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেন। আওয়ামী লীগ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক তৌহিদুর রহমান টুটুল, মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সাফিউর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মণ্ডল প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির বহিষ্কৃত নেতা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাও অনেক আগে থেকেই নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রার্থী না হলে মোস্তফা ভালো করবেন। জাসদের প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে আছেন জেলা সভাপতি ডা. একরামুল হোসেন স্বপন এবং সাধারণ সম্পাদক ও জেলা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি সাখাওয়াত রাঙ্গা। এ আসনটিতে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রার্থী হলে এখানে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
রংপুর-৪ (পীরগাছা ও কাউনিয়া) : এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের টিপু মুনশি। তিনি এবারও এ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়া যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন কাউনিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম মায়া, যুবলীগ নেতা মোস্তফা সেলিম বেঙ্গল, বিএনপির উপজেলা সভাপতি এমদাদুল হক ভরসা ও সাহেদ কামাল পাটোয়ারী। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য করিম উদ্দিন ভরসা ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবুর রহমানও প্রচারে রয়েছেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোটগত হওয়ায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়। তবে আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আসনটি জাপার দখলেই যাবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) : এ আসনে সংসদ সদস্য রয়েছেন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান। তিনি এবারও মনোনয়নপ্রার্থী হচ্ছেন। তিনি নির্বাচন না করলে তার ছেলে রাশেক রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন নির্বাচন করবেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর, বিএনপির শাহ সোলায়মান আলম ও জামায়াতের শূরা সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমানও নির্বাচনী মাঠে তৎপর রয়েছেন।
রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) : এ আসনটি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ির এলাকা। নবম জাতীয় নির্বাচনে এ আসনে শেখ হাসিনা নির্বাচন করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দিলে উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ জয়ী হন। এবারও প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে পারেন। তিনি না হলে আবুল কালাম আজাদ প্রার্থী হচ্ছেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং ওই পরিবারের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সাইদ রেজা শান্ত ও শাহাদত হোসেন বকুল প্রার্থী হচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় অবশ্য বিভিন্ন সময় বলেছেন, দশম জাতীয় নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা নেই। বিএনপির নূর মোহাম্মদ মণ্ডল ও সাইফুল ইসলাম দলীয় মনোনয়ন পেতে জোর লবিং গ্র“পিং চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরপক্ষে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে উপজেলা জাপার সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম যাদুর।
রংপুরের ৬ টি আসনের মধ্যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত নির্বাচনের প্রশ্নে ৩টি আসন আওয়ামী লীগকে ছেড়ে দেয় জাপা। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতই হোক বা এককভাবেই হোক সবকটি আসনই জাপার প্রার্থী দেওয়ার কথা রয়েছে।




