শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সার্বিক সহযোগিতায় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়েছেন মো. রিপন মিয়া (৩৭) নামে এক প্রান্তিক আলুচাষি। ৭ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের একটি স্বনামধন্য বেসরকারি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। কৃষক রিপন মিয়া সদর উপজেলার লছমনপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া গ্রামের ইমান আলীর ছেলে। এদিকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ওই কৃষক ও তার পরিবার।

জানা যায়, সম্প্রতি শেরপুরের বেসরকারি তাজ কোল্ড স্টোরেজে অ্যামোনিয়া গ্যাস লিকেজের কারণে শত শত কৃষকের আলু পঁচে যায়। এতে অন্যান্যদের সাথে কৃষক রিপন মিয়ার ২৩২ বস্তা আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটির ন্যায্য ক্ষতিপূরণ আদায়ে কৃষকদের পক্ষে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন কৃষক ও কোল্ড স্টোরেজ মালিকপক্ষের সাথে দফায় দফায় সভা করেন। সেটির সমাধান আসার পর কৃষক রিপন মিয়া জেলা প্রশাসককে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গলায় টনসিলের রোগে ভুগছেন। ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়ে তিনি টনসিলের চিকিৎসা করবেন। পরে জেলা প্রশাসক রিপন মিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন এবং শহরের নারায়ণপুর এলাকাস্থ আবেদীন হাসপাতালে তার চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করেন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে এক সপ্তাহ ওষুধপত্র গ্রহণের পর গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে রিপন মিয়ার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। শুক্রবার বিকেলে তাকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শুক্রবার বিকেলে তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা। এসময় রিপন মিয়া জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শ্যামলবাংলাকে বলেন, আমি কিছুদিন থেকেই অসুস্থ। এর মধ্যেই আমার আলু কোল্ড স্টোরেজে নষ্ট হয়ে যায়। ডিসি স্যারের উদ্যোগে আমরা আলুর ক্ষতিপূরণ পেয়েছি। সেই টাকা দিয়ে গলার চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলাম। ডিসি স্যার বিষয়টি শুনে আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি স্যারকে ধন্যবাদ জানাই। উনার জন্য ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা দুইটিই পেয়েছি।

তার স্ত্রী রুমা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক স্যার আমার স্বামী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। এজন্য উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, রিপন মিয়ার টনসিলের সমস্যাটি খুবই গুরুতর আকার ধারণ করেছিল। দ্রুত সময়ের মধ্যে অস্ত্রোপচার করা না হলে বড় সমস্যা হতে পারতো। আমরা গুরুত্ব সহকারে অস্ত্রোপচারটি করে দিয়েছি।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন শ্যামলবাংলাকে বলেন, কৃষকদের আলুর সমস্যা সমাধানের সময় রিপন মিয়া তাকে অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। তার কষ্টের জমানো টাকা চিকিৎসাতে চলে যাবে ভেবে তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য সার্বিক সহযোগিতার চেষ্টা করেছি। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত প্রতি বুধবার গণশুনানীতে অসহায় হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।




