শেরপুরে ঝিনাইগাতীতে দৈনিক ইত্তেফাক, ভোরের কাগজ ও শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র প্রতিনিধি মো. খোরশেদ আলমের ওপর হামলাকারী প্রধান আসামি মো. রাসেল মিয়াকে (৩৫) ৩০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাসেল উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে।

গ্রেফতারকৃত রাসেল আন্ত:জেলা চোরাকারবারী ও মাদকচক্রের সক্রিয় সদস্য এবং নিজ এলাকায় তার নেতৃত্বে গড়ে উঠা রাসেল বাহিনীর প্রধান ও অবৈধ অস্ত্রধারী। তার বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত দেড় ডজন মামলা রয়েছে। এ নিয়ে সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় আসামিদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। এর আগে গত ১৬ আগস্ট ৩ জনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল-আমীন সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলার মামলায় প্রধান আসামি রাসেল মিয়াকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত রাসেলের নিকট থেকে ৩০ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর হামলাসহ আরও কয়েকটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক খোরশেদ আলম দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্র ‘রাসেল বাহিনী’র নানা অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ করে আসছিলেন। এর জেরে সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিক খোরশেদ আলমকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। গত ১৫ আগস্ট রাতে ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া বাজার এলাকায় সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় খোরশেদ আলম জ্ঞান হারালে সন্ত্রাসীরা তকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে সাংবাদিক খোরশেদ আলম গুরুতর আহত অবস্থায় শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় পরদিন আহত সাংবাদিক মো. খোরশেদ আলমের ছোট ভাই মো. হুমায়ুন খান বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী একাধিক মামলার আসামি মো. রাসেল মিয়াসহ ৬ জনকে স্বনামে এবং ৬/৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।




