শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের সূর্যদী গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটা মর্মান্তিক গণহত্যাকে কেন্দ্র করে রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘সূর্যদীর গল্প’ মঞ্চায়নের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নাটকের নির্দেশক এবং কুশিলবদের মধ্যে পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৮ মার্চ সোমবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেটস্থ সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষে ওই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।

নাটকের নির্দেশক অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়ার সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাটকের সহকারী নির্দেশক এস এম আবু হান্নান, সংগীত পরিচালক অধ্যাপক তপন সারোয়ার, ব্যবস্থাপনা সহকারী মো.আবুল কালাম আজাদ, নাট্যশিল্পী মলয় মোহন বল,শিক্ষক মো. সুরুজ্জামান,মো. এরশাদ আলী, প্রভাষক আবু হানিফ, মো. এনামুল হক, তৌহিদা স্বাধীন, পূজা পাল, ডা. গোলাম মোস্তফা,শিক্ষক মো. রানা,বকুল, শুভংকর সাহা,অর্ক, অন্তু প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর সকাল ৮টায় স্থানীয় রাজাকারদের নির্দেশে শেরপুর সদর উপজেলার সূর্যদী গ্রামে পাক হানাদার বাহিনী নিরীহ মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। সেদিন গ্রামবাসী কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাক বাহিনীরা ছুঁড়তে থাকে এলোপাতাড়ি গুলি এবং পুড়িয়ে ছাই করে দেয় প্রায় দুইশ’ ঘরবাড়ি। ওই সময় গ্রামের একটি ধানক্ষেতে লুকিয়ে থাকা মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন দূর থেকেই ফাঁকা গুলি করতে থাকেন। গুলির আওয়াজ পেয়ে পাকবাহিনীরা লাইনে দাঁড় করানো লোকদের ফেলে রেখে ছুটে যায় তার সন্ধানে।

পরে পাকসেনারা মুক্তিযোদ্ধা আফছার উদ্দিন ও সূর্যদী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে একটি ধানখেতে নির্মমভাবে হত্যা করে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা আফছারের আত্মত্যাগের বিনিময়ে প্রায় পঞ্চাশ জন নিরীহ গ্রামবাসী প্রাণে বেঁচে যায়। সেইসাথে শহীদ হয় গ্রামের মোট ৪৯ জন নিরীহ মানুষ।
সেদিনের ঘটনা অবলম্বনে ‘সূর্যদীর গল্প’ নাটকটি শেরপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বিপিএমের গবেষণা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রচনা করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইমরান আহম্মেদ পিপিএম ও শেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শিব শংকর কারুয়া।




