’যারা মাদকের ব্যবসা করে, তারা সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হলে সে যে কেউ হোক তাকে চরম মূল্য দিতে হবে।’ কথাগুলো বলেছেন শেরপুরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বিপিএম। ২৯ মার্চ বুধবার বিকেলে ’বিট পুলিশিং বাড়ি বাড়ি, নিরাপদ সমাজ গড়ি’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে মাদক, জঙ্গিবাদ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ, পানিতে ডুবে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হয়ে অপমৃত্যু প্রতিরোধে শ্রীবরদী থানার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সচেতনতামূলক বিট পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন। মাদক, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, বাল্য বিয়ে, পানিতে ডুবে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অপমৃত্যু্ প্রতিরোধে সচেতনতার লক্ষে শ্রীবরদী থানার উদ্যোগে গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া বাজার এলাকায় ওই বিট পুলিশিং সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, একটি স্বাধীন দেশের মানচিত্র উপহার দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে সেই স্বপ্ন রূপান্তরের পথ দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। ভিশন ২০৪১ বিনির্মাণে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একত্রে এগিয়ে চলেছি। এই উন্নতিতে বাধা হয়ে আসছে বিভ্রান্তকারী কিছু দুষ্ট চক্র। আমি অনুরোধ করবো আপনারা এই দুষ্ট চক্রের ফাঁদে পা-দিবেন না। তাদের মধ্যে একটি হলো সর্বনাশা মাদক। আমাদের অবশ্যই এই মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি শেরপুর জেলায় যোগদান করে জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। মাদকের সাথে কারো কোনভাবে সম্পৃক্ততা থাকবে না সেটা পুলিশ সদস্য হোক, রাজনৈতিক বা অন্য যে কেউ। মাদকের সাথে সম্পৃক্ত হলে চরম মূল্য দিতে হবে। আমাদের এখানে আরেকটি সমস্যা আছে যে সমস্যাটা কিন্তু সার্বজনীন। এই সমস্যা থেকে আমাদের মা-বোন কে সচেতন করতে হবে সেটা হল বাল্য বিবাহ। আপনারা জানেন শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের ভূমিকা অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, একটা জিনিস আমাকে খুব পীড়া দেয় তা হলো শেরপুর জেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সর্বাধিক সংখ্যক লোকের মৃত্যু হয়। এ বিষয়টা নিয়ে আমরা কাজ করছি, ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছি। কি কারণে দোষটি কার যে মারা গেল তার বা তার পরিবারের নাকি আমাদের সকলের।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। আমাদের দেশের জনগণ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান-মুসলমানসহ বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী। বিভিন্ন সময়ে স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি-গোষ্ঠী বা দল ভিন্ন ধর্মের বিশ্বাস ও লোকদের ওপর আক্রমণ করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করে। তাই এসব সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকার আহবান জানান।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় শেরপুরে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু’র ঘটনা ঘটে। শিশুগুলোকে রক্ষা করার দায়িত্ব কিন্তু আমাদের। আমি চাই না যে আর একটি শিশু এভাবে তার পরিবারের অবহেলায় মারা যাক। এ ব্যাপারে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
পুলিশিং সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সেবার কার্যক্রমকে গতিশীল ও কার্যকর করা এবং পুলিশের সাথে প্রান্তিক জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন। তিনি যে কোনো ধরনের অপরাধ সর্ম্পকে তথ্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা জেলা পুলিশের হট লাইন নম্বরে ফোন করে জানানোর আহবান করেন।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ও সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) রায়হানা ইয়াসমিন। শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, গড়জরিপা ইউপি চেয়ারম্যান এমএ জলিল, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ ছালেহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু বকর সিদ্দিক প্রমুখ।
শ্রীবরদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নাঈম মো. নাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, সনাতন ধর্মাবলম্বী, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পাঁচ শতাধিক লোকের সমাগম ঘটে।




