শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার আহাম্মদ নগর-দিঘীরপাড় পাকা সড়কে পাহাড়ি ঢলের কারণে ভাঙনকবলিত এলাকায় একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। অবশেষে স্বেচ্ছাশ্রমে প্লাস্টিকের ২০টি ড্রামের ওপর প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ১৩ জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এতে ওই পথে যাতায়াতকারী মানুষজনের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে। তবে ওই স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, গত ২৮ জুন থেকে টানা ৩ দিনের ভারি বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার দিঘীরপাড় মধ্যপাড়া এলাকায় মহারশি নদীর বাঁধের প্রায় ৭০ ফুট অংশ ভেঙে যায়। এতে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয় এবং আহাম্মদনগর-দিঘীরপাড় পাকা সড়কের দিঘীরপাড় মধ্যপাড়া এলাকায় একটি ইউড্রেনসহ প্রায় ৮০ ফুট পাকা সড়ক ভেঙে গিয়ে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে ভাঙা স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শনকালে উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম স্থানীয়দের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের জন্য সদর ইউপি সদস্য (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) আব্দুল কুদ্দুসকে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু বরাদ্দ দেওয়ার ১০/১২ দিন অতিবাহিত হলেও ওই স্থানে কোন কাঠের সেতু বা বাঁশের সাঁকো নির্মিত হয়নি। তাই এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশ ও টাকা সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে প্রায় ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ প্রস্থের সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, বরাদ্দের তিনদিন পর প্রাক্কলনের কাগজ হাতে পেয়েছি। প্রাক্কলন অনুযায়ী ৩৬টি সিমেন্টের খুঁটি তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাঠেরও অর্ডার দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ঈদুল আযহার দুই-তিন দিনের মধ্যেই সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে।
এলজিইডির ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, ভেঙে যাওয়া সড়কটিতে একটি কাঠের সেতু নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
গত ১৩ দিন ধরে প্লাস্টিকের চারটি ড্রাম ও বাঁশের তৈরী ভেলা দিয়ে পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট এ খালটি পারাপার হচ্ছিলেন স্থানীয়রা।




