সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব
সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে টানা ৩ দিনের প্রবল বর্ষণে শেরপুর পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় বাসা-বাড়িতে উঠেছে পানি। এছাড়া তলিয়ে গেছে বেশ কয়েকটি সড়ক। এতে যানবাহন চলাচল ও জনযাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সেইসাথে জলাবদ্ধতা ও বাসা-বাড়িতে পানি উঠায় বেড়েছে ওইসব এলাকার মানুষের ভোগান্তি।

জানা যায়, গত সোমবার থেকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত টানা ৩ দিনের বর্ষণে শহরের সজবরখিলা, গৌরীপুর, খরমপুর, চকপাঠক, নবীনগরের একাংশ, রাজবল্লভপুর ও ঢাকলহাটি মহল্লাসহ অন্তত: ১২/১৩টি মহল্লায় পানি প্রবেশ করে। কিন্তু পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় পাকা-অর্ধপাকা ও ভগ্নপ্রায় রাস্তাগুলো প্লাবিত হয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকায় একদিকে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে বেড়েছে অধিবাসীদের দুর্ভোগ। কেবল তাই নয়, শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিরবাজার বটতলা মোড় থেকে ডিসি গেইটমুখী রাস্তাটির পাশাপাশি খরমপুর-তেরাবাজার মোড়, সজবরখিলা-রংমহল রোড, জেলা প্রাণীসম্পদ হাসপাতালের সামনের রোড, নবীনগর আদর্শ বিদ্যাপীঠ সড়কসহ প্রায় ৭/৮টি সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই যখন তলিয়ে যায়, ঠিক তখন ৩ দিনের টানা বর্ষণে ওইসব সড়কগুলো প্লাবিত হয়ে যানবাহন চলাচল ও জনযাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় মূল শহর থেকে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর ৩টি ছোট ক্যানালের আদলে ড্রেন নির্মাণ হলেও শহরের খোয়ারপাড় মোড় থেকে দমদমা কালিগঞ্জ হয়ে মৃগী নদীতে নেমে যাওয়া বৃহৎ ড্রেনের পূর্ণাঙ্গ কাজটি এখনও শেষ হয়নি। এছাড়া শহরের প্রধান প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ড্রেনগুলোর সংস্কার ও উন্নয়ন নেই দীর্ঘদিন যাবত। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক এলাকাতেই নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়নি ড্রেন। কোন কোন এলাকায় ক্ষুদ্রকায় ড্রেন থাকলেও সেগুলো কাঁচা।
শহরের উত্তর গৌরীপুর এলাকার বাসিন্দা ফাহিম চৌধুরী হিরো বলেন, আমাদের এলাকায় ড্রেন না থাকায় বৃষ্টির পানিতেই বাড়ির উঠোনে পানি উঠেছে। পুরো খোয়ারপাড় এলাকার অধিকাংশ পানি এদিক দিয়ে নামলেও এখানে কোন ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি।
ঢাকলহাটি এলাকার সায়েদ আলী জানান, তার এলাকায় পানি নিস্কাশনের জন্য কোন ড্রেন না থাকায় প্রতি বছরই তার বাড়ির সামনের রাস্তাসহ বাড়িতে পানি উঠে। একই অবস্থা আশেপাশের অনেকের।
সজবরখিলা এলাকার শিক্ষক সাইফুল ইসলাম শাহিন বলেন, ওই এলাকার ডক্টরস হসপিটালের বিপরীতমুখী এলাকায় বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। এতে যাতায়াতে বেড়েছে দুর্ভোগ। এছাড়া সজবরখিলা রংমহল মোড়ের আশেপাশেও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তার নিজের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ‘আঁচড়’-এও পানি ওঠার উপক্রম হয়েছে।
নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, পৌরসভার শহরতলীগুলো দীর্ঘদিন যাবত যেন নানা সমস্যায় এখনও তলিয়েই আছে। ড্রেনেজ, রাস্তাঘাট ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সঠিক পরিকল্পনা ও সদিচ্ছার অভাবে ওইসব এলাকার মানুষের দুর্ভোগও কমছে না। তার মতে, সুন্দর শহরায়ন গড়তে যদি সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা যায়, তবে বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতায় মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হবে না।
এ ব্যাপারে শেরপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম জানান, টানা বর্ষণের কারণে শহরের যেসব এলাকায় পানি জমেছে ও রাস্তাঘাট উপচে মানুষের কষ্ট হচ্ছে, সেসব এলাকায় কষ্ট লাঘবে পৌর কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে ঐতিহ্যবাহী এ পৌরসভার ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে সদরসহ জেলার ৪টি পৌরসভার জন্য ডিপিপির আওতায় ৩শ কোটি টাকা প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ওই প্রস্তাবে শেরপুর পৌরসভার ড্রেনেজ খাতেই রয়েছে ২শ কোটি টাকা। কাজেই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে শেরপুর পৌর এলাকার ড্রেনেজ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। সেইসাথে থাকবে না মানুষের দুর্ভোগ।




