
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : অর্থনীতিবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মইনুল ইসলাম বলেছেন, ‘১৯৮১-৮২ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এদেশের জিডিপি’র ১৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছে গিয়েছিল। সেটা ২০১৬ সালে এসে জিডিপি’র দুই শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এই দুই শতাংশের মধ্যে আবার ৯৮ শতাংশই প্রকল্প ঋণ ও সাহায্য।এখানেই আমার প্রশ্ন। সব প্রকল্পই কি আমাদের দরকার?’
এরপর তিনি এই প্রকল্প সাহায্যকে লুঠপাটের সুব্যবস্থা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রকল্প সাহায্যের শতকরা ৮০-৮৫ ভাগই পাইপলাইনে কেটে ফেলে।এটি হলো লুঠপাটের একটি সুব্যবস্থা।এজন্যই এসব প্রকল্প নেওয়া হয়। এই বদখাসলত আমাদের ছাড়তে হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, বাংলাদেশ যদি এক পয়সাও প্রকল্প সাহায্য না নেয় এদেশের অর্থনীতির কিছুই হবে না। এটা কথায় না, আমি প্রমাণ করে দেব। পদ্মা সেতু দিয়ে সেটি ইতিমধ্যে প্রমাণ হয়ে গেছে।’
শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির জামালখান ক্যাম্পাসে ‘২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে মূল আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ব্যাংকার্স এলাইনস অব বাংলাদেশ এই সেমিনারের আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম ইনডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকার্স এলাইনস অব বাংলাদেশের সভাপতি শাকিল মাহমুদ। এছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ।

ড. মইনুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু হচ্ছে, আমাদের অর্থনীতির কি হয়ে হয়েছে। কিছুই হবে না।আমাদের সেই সামর্থ আছে।এরফলে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও দাতাদেশের ব্লাকমেইলিং আর খবরদারী করার যে কাঠামো তা আর সম্ভব হয়নি।’
সরকারের উন্নয়ন ব্যয় এখনও লুঠপাটের লোভনীয় ক্ষেত্র হিসেবে রয়ে গেছে মন্তব্য করে অধ্যাপক মইনুল বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের দশ মাসে এডিপি’র মাত্র ৫০ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছিল। বাকি দু মাসে যদি এই শতাংশকে ৯০ শতাংশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে যে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ দুর্নীতির খায়েস মেটাবে তাতে সন্দেহ করার কোনো কারণ আছে কি? আসলে, বর্তমান সরকারের স্বজন-তোষণ ও দুর্নীতি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।’
দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে কম খরচ হচ্ছে উল্লেখ করে এই ইউজিসি অধ্যাপক বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে খরচ করতে চান না। অনেকে বলেন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া আছে।যতই ঝগড়া থাকুক শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। গত অর্থবছরে শিক্ষাখাতের বরাদ্দকে যে জিডিপির ১ দশমিক ৮৪ শতাংশে নামিয়ে ফেলা হয়েছিল অর্থমন্ত্রী বোধহয় সেটা খেয়ালই করেননি। তবে আগামী অর্থবছরের শিক্ষাখাতের বরাদ্দকে ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিসংখ্যানগত বিভিন্ন ত্রুটির বিষয় তুলে ধরে এই বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আমাদের নীতি নির্ধারকরা তাদের রাজনীতির প্রয়োজনে ডাটা ডক্টরিং করতে গিয়ে ধরা খেয়ে গেছেন। এটা আসলে এদেশের রাজনৈতিক সরকারগুলোর একটা পুরোনো রোগের লক্ষণকেই তুলে ধরেছে, যেজন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশের সরকারি তথ্যগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করে না। পরিসংখ্যান নিয়ে গোঁজামিল দেওয়ার এই বদখাসলত পরিহার করতে হবে।’





