স্টাফ রিপোর্টার : জাতিগত-ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা পরিহার ও পারস্পরিক মেলবন্ধন সৃষ্টির লক্ষ্যে শেরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে আদিবাসী-বাঙালী ছাত্র-যুব সংস্কৃতি বিনিময় সমাবেশ। ২২ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ’র আয়োজনে শেরপুর সরকারি কলেজ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ গবেষক প্রফেসর ড. একেএম রিয়াজুল হাসান। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জাসদ সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, প্রেসক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার, সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, ওয়ার্ল্ড ভিশন শেরপুর এডিপি’র শিক্ষা কর্মকর্তা সুজিত বনোয়ারী ও জেলা মহিলা পরিষদের সহ-সম্পাদিকা আঞ্জুমান আরা যুথী।
জনউদ্যোগের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘বাঙালী আদিবাসী সংস্কৃতি : প্রচলিত ধারা, সম্পর্ক এবং প্রজন্ম ভাবনা’ শীর্ষক মুলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্রীবরদী ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রাঞ্জল এম. সাংমা। সংগঠনের সদস্য সচিব সাংবাদিক হাকিম বাবুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে মানবাধিকার কর্মী সোলায়মান মিয়া, আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মন, মিঠুন কোচ, বাগাছাস নেতা অনিক চিরাণ, শান্তা হাজং, ছন্দা সরকার, আনসেং সাংমা, সুধন ডালু, বিজয় চিসিম, ছাত্রলীগ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নিশান, তাশদিদুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. একেএম রিয়াজুল হাসান তার বক্তব্যে বলেন, মানব সমাজে জাতি বৈচিত্রতা যেমন একে অপরকে সংঘাতে ঠেলে দিয়েছে আবার সেই সংঘাত থেকে দুরে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থানের পথও আবিষ্কার করেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে পৃথিবীর মানব সমাজ জাতপাত ভূলে উদার মানবিকতার চর্চা করে ধরিত্রীকে সকলের বাসযোগ্য করার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে। এটাই সবার জন্যে সুখের খবর।
মুলপ্রবন্ধে বলা হয়, কোন জাতিগোষ্ঠীর নিজস্বতাকে চেনা যায় তার সংস্কৃতি দিয়ে। সংস্কৃতি জাতির দর্পন। সে দর্পনে দেখা যায় নিজস্ব অবয়ব। এই নিজস্বতাই বড় পরিচয়। বাঙ্গালী জাতিগোষ্ঠীসহ বাংলাদেশের অনেক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি, নিজস্ব পরিচয়। কিন্তু নেই অবাধ সাংস্কৃতিক বিনিময়, পরিচয় এবং মুক্ত চর্চার মাধ্যম। সে কারনেই জাতিরাষ্ট্র উন্নয়নে গতি পায়না। অনেক ক্ষেত্রে অবাধ সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ না থাকার কারনেও ভূল বোঝাবোঝি হয়। জানার মাধ্যম না থাকার কারনে সমাজের প্রচলিত ধারনা নির্ভর বুলির উপর ভর করেই একটি শিশু অন্য সস্কৃতির বিষয়ে ভ্রান্ত ধারনা লালন করে বেড়ে উঠে। সে কারনেই পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসা গড়ে উঠে না। সে বিষয়ে সংবাহন তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।
অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, জাতিগত সংখ্যালঘু বা আদিবাসীদের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং সস্কৃতির নানা দিক খুব কম মানুষেরাই জানেন না। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের বিশাল একটি অংশের মানুষেরা। অথচ এই প্রজন্মের মানুষেরাই নিকট ভবিষ্যতে দেশ বির্নিমাণ করবে। তাই এ দেশের নাগিরক হিসাবে দেশের সকল জাতিগোত্র বর্ণবৈচিত্র এবং বর্ণিল সাং¯ৃ‹তিক সম্পদ ও সম্ভাবনাকে জানা অতিব জরুরী। এক দেশের নাগরিক হয়ে পরস্পর সংস্কৃতি আদান-প্রদান হলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরনের দ্বারা দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই, রাষ্ট্র বা অন্য কেউ সেই সংবাহন সৃষ্টি করেনি।
ওই ছাত্র-যুব সংস্কৃতি বিনিময় সমাবেশ বাঙালীদের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে জেলার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের শতাধিক শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও সংগঠক অংশগ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে মোট ৪৫টিরও অধিক ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লক্ষাধিক। শেরপুর জেলার উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ী অঞ্চল সমূহে গারো, কোচ, হাজং, ডালু, বানাই, ক্ষত্রিয়, বর্মন ক্ষুদ্র-নৃ জাতিগোষ্ঠীর বাস রয়েছে। শেরপুর জেলায় তাদের জনসংখ্যা কমবেশী ৩০ হাজার। তাদের রয়েছে নিজস্ব উৎসগত নৃ-জাতির পরিচয়।




