খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী (শেরপুর) : গ্রীষ্ম শুরু না হতেই সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খাল, বিল, নদী-নালা, পুকুর জলাশয়গুলো শুকিয়ে গেছে। শতশত নলকুপ হয়ে পড়েছে অকেজো । ফলে এ উপজেলায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। খাবার পানি তো দূরের কথা, কৃষকরা তাদের গবাদিপশুর গোসলসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও পানি ব্যবহার করতে পারছে না।
জানা যায়, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর পাহাড়ি এলাকায় নিচে নেমে যাওয়া এবং খাল-বিল, নদী-নালা, পুকুরের পানি শুকিয়ে প্রতি বছর এ দিনে সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোন কোন গ্রামে একটি নলকুপে পানি উঠলে পুরো গ্রামবাসীরা ওই নলকুপে পানির জন্য ভীড় জমাচ্ছে। কোন কোন গ্রামের মানুষ ২/৩ মাইল দূর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। আদিবাসী পল্লীর লোকজন বিভিন্ন জলাশয়ের পানি পান করে পেটের পীড়াসহ নানাধরনের পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। উপজেলা সদর বাজারসহ সরকারি কোয়ার্টারগুলোতে পানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর এ দিনে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক স্তরের তুলনায় ১শ ফুট নিচে নেমে যায়। ফলে নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রতি বছর এখানে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পানি সংকট নিরসনে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। স্থানীয় সাংসদ প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন বলেন, ইতোপূর্বে পানি সংকট সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বেশকিছু গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানেও অর্ধশত নলকূপ স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, পানি সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ট্যাংক স্থাপনের জন্যে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। বরাদ্দ এলে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।




