স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বন্দনা চাম্বুগং ও বিএনপি প্রার্থী ওমর ফারুক। এছাড়া নন্নী ইউনিয়নের ছাইচাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফলও বাতিল করে পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিল্লাল হোসেন চৌধুরী। ২৩ মার্চ বুধবার দুপুরে শেরপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্মীদের সামনে তারা ওই দাবি উপস্থাপন করেন।
বন্দনা চাম্বুগং সাংবাদিকদের জানান, ২২ মার্চ মঙ্গলবার রাতেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে লিখিত আবেদনে বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আজাদ মিয়ার মোটরসাইকেল প্রতীকে ভোট জালিয়াতির বর্ণনা দিয়ে ওই কেন্দ্রের ফলাফল বাতিলপূর্বক পুনরায় ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তার লিখিত অভিযোগে বলা হয়, পোড়াগাও ইউনিয়নের ৯টি কেন্দ্রের মধ্যে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৭টার মধ্যে ৮টি কেন্দ্রের ফলাফল কেন্দ্রেই ঘোষণা করা হয়। ওই ৮টি কেন্দ্রের ঘোষণা অনুযায়ী নৌকা প্রতীকে মোট ভোটের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৬২ ভোট। নিকটতম হিসেবে ছিল ধানের শীষ প্রতীকের ২ হাজার ৫৩৬ ভোট ও তৃতীয় স্থানে থাকা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ১৪৩ ভোট। ওই ফলাফল শোনার পরই স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে প্রার্থী মোঃ আজাদ মিয়া কৌশলে বুরুঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল আটকে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেন। পরে প্রিজাইডিং অফিসার আছমত আলী চেয়ারম্যান পদের ফলাফল ঘোষণা না করে এবং নৌকা প্রতীকের এজেন্টদের বের করে দিয়ে তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই নালিতাবাড়ীতে নিয়ে যান। যাওয়ার পথে বস্তাভর্তি ব্যালট পলাশিকুড়া গ্রামের জনৈক দরবেশ আলীর বাড়ির নিকট ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পেছনে থাকা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সমর্থকদের বাধার মুখে তা ফেলতে পারেনি। এরপর উপজেলা পরিষদের কন্ট্রোল রুমে যাওয়ার দীর্ঘ সময় পর রাত প্রায় ১০টার দিকে বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোট ২ শতাধিক বেশি দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। একই অভিযোগ করেন বিএনপি প্রার্থী ওমর ফারুক।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে প্রিজাইডিং অফিসার আছমত আলী বুরুঙ্গা কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুক্তার হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোর পর প্রার্থীকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হবে।
এদিকে একই উপজেলার ২নং নন্নী ইউনিয়নের ছাইচাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিল্লাল হোসেন চৌধুরী। তিনি ২৩ মার্চ বুধবার দুপুরে শেরপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া কর্মীদের সামনে ওই দাবি উপস্থাপন করেন এবং অভিযোগ করে বলেন, চশমা প্রতীকে বিএনপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুবুর রহমান রিটনের বড় ভাই নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম মোখলেসুর রহমান রিপন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ছাইচাকুড়া কেন্দ্রে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেন। তার প্রভাবে প্রার্থী রিটনের লোকজন নানা ধরনের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোট গ্রহণকালীন সময়ে তার নির্বাচনী এজেন্টদের জোরপূর্বক কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। এছাড়া কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দিনভর ওই কেন্দ্রে চশমা প্রতীকে জাল ভোট দেওয়া হয়।




