স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরের নকলা উপজেলার পাঠাকাটা ইউনিয়নে ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধী শান্তি কমিটির সভাপতির ছেলেকে আওয়মীলীগের মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই মনোনয়কে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে আমরা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নকলা উপজেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি ও ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ আবু শামীম মমতাজ দলের সভানেত্রী প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে জেলা আওয়ামীলীগের মধ্যমে লিখিত আবেদন দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে আওয়ামীগের মনোনীত প্রার্থী ওই অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ফয়েজ মিল্লাত । মিল্লাতের বাবা মৃত নইম উদ্দিন ছিলেন ওই এলাকার একজন চিহ্নিত রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সদ্য মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত কামারুজ্জামানের বিশ্বস্থ সহচর। মমতাজ লিখিত অভিযোগে বলেন, আমি এলাকার একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা মৃত শওকত আলীর ছেলে। আমি মনোনয়ন চাইলেও শুধু মাত্র টাকার বিনিময়ে আমাকে বাদ দিয়ে একজন রাজাকারের ছেলেকে মনোনয়ন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন আমাকে বাদ দিলেও মানা যায়। কিন্তু শান্তি কমিটির সভাপতির ছেলেকে আওয়ামীলীগ মনোনয়ন দিবে এটা অবিশ্বাস্য।
সরজমিন ঘুরে এলাকায় অনেকেই জানিয়েছে মিল্লাতের বাবা ৭১এর স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধারা ঘটনা সত্য বলে জানিয়েছে। বর্তমান পাঠকাটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক বলেন, মিল্লাতের বাবা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন। এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ আলী জানিয়েছেন টাকার জন্য আওয়ামীলীগ এখন রাজাকারের ছেলেদের মনোনয়ন দেয়। নইম উদ্দিন এই এলাকার শান্তি কমিটির সভাপতি হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তার ছেলে মিল্লাতকে মনোনয়ন কিভাবে দেওয়া হলো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জানতে চাই। মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাত আলী বলেন, রাজাকারের ছেলে আওয়ামীগের মনোনয়নে চেয়ারম্যান হবে এটা দেখতেই লজ্জা করছে। মুক্তিযোদ্ধা নবিউর রহমান জানিয়েছেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে আমার জনপ্রতিনিধি একজন রাজাকারের সন্তানকে দেখতে চাই না। মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান জানিয়েছে, দলের স্বার্থে রাজাকারের ছেলেকে ভোট দিব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নকলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের একজন সাবেক কমান্ডার বলেছেন, এটা সত্য ঘটনা। এ ব্যাপারে ফয়েজ মিল্লাতের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন এটা অবান্তর কথা। আমরা পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত কেউ বিএনপিও করে না। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্দ হয়ে এগুলো বলেছে। দল সব কিছু বিবেচনা করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে।




