স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় বেতন স্কেল দাবিতে শেরপুরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা। ৩ জানুয়ারি রবিবার দুপুরে কালেক্টরেট কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি শেরপুর জেলা শাখা উদ্যোগে ওই মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শতাধিক শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। পরে একই দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে লিখিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসক ডা. এ এম পারভেজ রহিমের নিকট প্রদান করা হয়।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৪ সালে সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষকদের বিতন-ভাতা প্রদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত থাকলেও আজও তা পূরণ হয়নি। ২০১০ সালে প্রনীত জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে একই পরিপত্রে সরকার রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য ৫০০ টাকা করে বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করে। সেসময় ৭ হাজার ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৩৫ হাজার শিক্ষকের মধ্যে ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার ৬ হাজার ৭৬ জন শিক্ষককে মাসিক ৫০০ টাকা হারে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়। রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে ধাপে ধাপে জাতীয়করণ করা হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর বিষয়ে আজো কোন কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সরকার ২০১৩ সালে ৫০০ টাকা ভাতা প্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভাতা এক হাজার টাকায় উন্নীত করলেও অবশিষ্ট ৫ হাজার ৪৮১ টি মাদ্রাসার ২৮ হাজার ৯২৪ জন শিক্ষক অদ্যাবধি বেতন-ভাতা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিগত ২৯ বছর ধরে শিশুদের শিক্ষা দিয়ে আসা এসব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা কোনপ্রকার বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে তারা সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করে তাদেরকে দু-বেলা, দুমুঠো ভালোভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার দাবী করেন।
বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতি শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. রেজাউল করিম ও সাধারন সম্পাদক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আমরা এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ঢাকায় দেশের সকল ইবতেদায়ী শিক্ষকদের নিয়ে সমাবেশ করে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।




