শ্যামলবাংলা ডেস্ক : কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ভেতরই দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে কোনোরকম বিরতি ছাড়াই বিকাল ৪টায় শেষ হয়। এখন চলছে ভোট গণনা।
সারা দেশে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট ডাকাতি, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া ও অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২০ মেয়র প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সাভারের ধামরাই, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, লক্ষীপুর রায়পুর, টাঙ্গাইলের মধুপুর, গোপালপুর ও সফিপুর, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, রাজবাড়ীর পাংশায়, জামালপুর, মুন্সিগঞ্জ সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ও বরগুনা সদর, পাবনার ঈশ্বরদী পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের মেয়র প্রার্থীরা ভোট বর্জন করেছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এমনও ঘটনার খবর রয়েছে যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নিজের ভোটটি পর্যন্ত দিতে পারেননি। সরকার সমর্থক প্রার্থীরা জালিয়াতি করে ভোট দিচ্ছ্নে।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের চেয়ে এবারের পৌর নির্বাচনে উচ্চমাত্রার কারচুপি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। ক্ষমতাসীনরা নির্বাচনে ১৫৭ পৌরসভায় তাণ্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে সরকারের নীল নকশা বাস্তবায়নে নির্বাচনের আগেই সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি। এদিকে আওয়ামী লীগেরও দাবি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও দেশের অনেক স্থানে বাড়াবাড়ি করেছে। আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিএনপি নানাধরনের অভিযোগ তুলছে। বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
চট্টগ্রামের সাতকনিয়ায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে নুরুল আমিন (৪০) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। সাতকানিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্রের বাইরে হোস্টেল মাঠে কাউন্সিলর প্রার্থী মোজাম্মেল হক ও মনিরুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় ওয়ার্কার্স পার্টির মেয়র প্রার্থী মতিন মোল্লাকে মারপিট করে কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা। গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজ কেন্দ্র থেকে ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ছাড়াও গোবিন্দগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে অন্তত ২ জুন আহত হয়েছেন। পৌর নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছিনতাই, সংঘর্ষ, জাল ভোট ও অনিয়মের অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৩৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আজ বুধবার সকাল ৮টায় ভোট শুরু হওয়ার পর দুপুর ২টা পর্যন্ত এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্র দখল, রাতে ব্যালটে সিল মারা এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্র আসতে বাঁধা দেবার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এরপরও তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন। এখন গণনা চলছে।




