শ্যামলবাংলা ডেস্ক : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের চূড়ান্ত রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে বুধবার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেছেন আপিল বিভাগ। দণ্ড কার্যকরের আগে মুজাহিদের শেষ আইনি লড়াই এই রিভিউ আবেদন। এটি খারিজ হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এড়াতে শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকবে মুজাহিদের। ১৭ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চে এ রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হয়। পরে বুধবার রায় ঘোষণার দিন ঠিক করেন আদালত। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। গত ১৬ জুন একই বেঞ্চ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ফাঁসির চূড়ান্ত রায় রিভিউ আবেদনও একই বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বুধবার এ আবেদনের ওপর শুনানির দিন পুনর্নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের মঙ্গলবারের কার্যতালিকায় মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর রিভিউ দুটি যথাক্রমে দুই ও তিন নম্বরে ছিল। মুজাহিদ ও সাকা চৌধুরীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগ রিভিউ শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন নির্ধারণ করেন। এছাড়া মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের শুনানি আজ কার্যতালিকায় চার নম্বরে রয়েছে। সোমবার সাকা চৌধুরীর পক্ষে পাকিস্তানের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা কিছু নথিপত্র আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার শুনানিতে মুজাহিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন ও রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সাকা ও মুজাহিদের রিভিউ শুনানি উপলক্ষে সোমবার থেকেই রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যাশা করছে, সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের আপিলের রায়ও পরিবর্তন হবে না। রিভিউ আবেদন খারিজ হলে রায়ের অনুলিপি কারাগারে পাঠানো হবে। এরপর থাকবে মাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার পালা।
যুদ্ধাপরাধের দুটি মামলার রায় কার্যকরের আগে দেখা গেছে, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাননি। তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চেয়ে আগামীতে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন না বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। দুই আসামি যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান ও তা নাকচ হয়, সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে আর কোন আইনি বাধা থাকবে না।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের ফাঁসি বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। পরদিন রায়ের কপি বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে বিচারকদের স্বাক্ষর শেষে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। এ দুটি মৃত্যু পরোয়ানার কপি (ডেথ ওয়ারেন্ট) লালসালুতে মুড়িয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ও গাজীপুর কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
৬৬ বছর বয়সী সাকা চৌধুরী কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে ও ৬৭ বছর বয়সী মুজাহিদ বর্তমানে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। কারাগারে পৌঁছার পর দুই ফাঁসির আসামিকে মৃত্যুর পরোয়ানা পড়ে শোনায় কারা কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ত্রাস সাকা চৌধুরী ও একাত্তরে ‘বদর বাহিনীর’ প্রধান মুজাহিদের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এরপর ১৪ অক্টোবর রিভিউ আবেদন করেন দুই যুদ্ধাপরাধী। পরদিন আবেদনের শুনানির দিন নির্ধারণের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।




