শ্যামলবাংলা বিনোদন : ২০ এপ্রিল ‘হলিডে’ শিরোনামে একটি নাটকের শুটিং করতে নেপালে পাড়ি দেয় বাংলাদেশি শিল্পীদের একটি দল। এই দলে ছিলেন অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়, রুনা খান, কল্যাণ, নোমিরাসহ ১১ জন। কিন্তু ২৫ এপ্রিল নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার লোকের মৃত্যু ঘটে। সৌভাগ্যক্রমে রবিবার রাতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের এই দলটি অনেকটা সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরেছেন। এই দলের একজন অভিনেত্রী রুনা খান। এক সাক্ষাতকারে তিনি জানালেন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা…

> কেমন আছেন?
রুনা খান: ভালো আছি (ভাঙা গলায়)। তবে সকালে আমার ফোনটা অন করার পর থেকে কথা বলতে বলতে হাঁপিয়ে উঠেছি। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি মিডিয়ার অনেকেই ফোন করে খবর নিচ্ছেন। এদের মধ্যে শমী কায়সার, সুইটি আপাসহ অনেকেই রয়েছেন।
> নেপাল থেকে ঢাকায় পৌঁছালেন কিভাবে?
রুনা খান: গতকাল রাত দেড়টায় নেপাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। রাত ৪টার দিকে বাসায় এসে পৌঁছাই। বিমানে আমাদের সঙ্গে আরও অনেক বাংলাদেশিও ছিলেন।

> ভূমিকম্পের সময় আপনি কোথায় ছিলেন?
রুনা খান: ভূমিকম্পের আগ মুহূর্তে পাহাড়ের উপর নাগরকোট ক্লাব হিমালয় রিসোর্টের সামনে আমাদের শুটিং চলছিল। যদিও আমি তখন ফ্রেশ হতে গিয়েছিলাম। ভূমিকম্প শুরু হলে ফ্রেশ রুম থেকে দ্রুত বেড়িয়ে রিসোর্টের সামনের খোলা মাঠে আশ্রয় নেই। এসময় পাহাড়ের উপর থেকে পাথর গড়িয়ে পড়ছিল। যার ফলে পাহাড়ি রাস্তা, রিসোর্ট, বাড়িঘর সব কিছু ধুলায় মিশে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে ইউনিটের সবাই পাহাড় থেকে নিচে নামার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু উচু নিচু পাহাড় বেয়ে নামতে গিয়ে আমি পড়ে যাই। ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ছিঁলে যায়। আর পা মচকে যায়। তখন কল্যাণ আর জয় ভাই আমাকে কোন ভাবে নিচে নামিয়ে আনে।
> নাগরকোট থেকে কাঠমুণ্ডুতে পৌঁছালেন কিভাবে?
রুনা খান: ভূমিকম্প থেমে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পর আমরা কাঠমুণ্ডুর উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু ভাঙা রাস্তা আর বিধ্বস্থ বাড়িঘরের কারণে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে রাত ১২টায় কাঠমুণ্ডুতে এসে পৌঁছাই। যদিও এটা মাত্র দেড় ঘণ্টার রাস্তা ছিলো। এখানে পৌঁছেই আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকার কারণে আমার পায়ে এক্সরে করা সম্ভব হচ্ছিলো না। তাই কোন চিকিৎসা না নিয়ে হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। কিন্তু আমরা যে হোটেলে উঠেছিলাম অর্থ্যাৎ কাঠমুন্ডুর র্যা ডিসন হোটেলেও ফাটল ধরেছে। ফলে আমরা অনেকটা আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি।
> কাঠমুণ্ডুস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখানকার পরিস্থিতি কেমন ছিলো?
রুনা খান: নেপালের বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি গাড়ি হোটল থেকে আমাদের সেখানে নিয়ে যায়। ২৫ এপ্রিল সারা রাতই দূতাবাসের কম্পাউন্ডে ছিলাম। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে আমাদের মতো অনেক বাংলাদেশিও সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। খুব একটা সমস্যা না হলেও, মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলাম।
> টানা দুই দিন আপনার পরিবারের সকলেই উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলো, এখন কি অবস্থা?
রুনা খান: ভূমিকম্পের পর আমরা কেউই দেশে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। কারণ মোবাইলের নেটওয়ার্ক কাজ করছিলো না। তবে যখন যোগাযোগ সম্ভব হয়, তখন আঘাত পাওয়ার বিষয়টি ইচ্ছে করেই চেপে যাওয়া হয়। কারণ আমার মেয়ে রাজেস্বরী অস্থির হয়ে পড়েছিলো। আর ঢাকায় ফেরার পর সকালে আমার মুখ ধরে বারবার আদর করছিলো। আর আমার মা তো বলেই দিয়েছে, অভিনয়ের জন্যে আর কখনও দেশের বাইরে যেতে দেবে না।
> ভূমিকম্পের মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক দূর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে দেশে ফিরেছেন, এখন কেমন লাগছে?
রুনা খান: চোখের সামনে মৃত্যুকে দেখে এসেছি। শুধু বারবার দেশের কথাই মনে পড়ছিলো। তাছাড়া প্রিয় মানুষগুলো আমার জন্যে যে ভাবে দোয়া করেছে, সেজন্যেই আল্লাহ আমাকে ভালোভাবে ফিরিয়ে এনেছে।




