ads

সোমবার , ১৭ নভেম্বর ২০১৪ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে রাবি উত্তাল : অধ্যক্ষসহ আটক ১৫

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
নভেম্বর ১৭, ২০১৪ ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

RUTA picরাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. এ কে এম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে নৃশংষভাবে হত্যায় ক্যাম্পসে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ক্যাম্পাসে শোকর‌্যালী, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল রোববার শিক্ষক সমিতি, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী পৃথক পৃথকভাবে এসব কর্মসূচী পালন করে। এছাড়া জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আহ্বানে কর্মবিরতি পালন করেছে শিক্ষকরা। এদিকে বিভাগের শিক্ষকে হত্যার ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ। অপরদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন আহমেদসহ ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

Shamol Bangla Ads

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রোববার বেলা ১১টার দিকে ড. শফিউল হত্যার প্রতিবাদ ও হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি শোক র‌্যালী ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে থেকে কালো ব্যাচ ধারন করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি শোক র‌্যালী বের করেন। র‌্যালিটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিন শেষে একই স্থানে এসে প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর কামরুল হাসান মজুমদারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর প্রনব কুমার পান্ডের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক ভিসি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, প্রফেসর শামসুল আলম সরকার, প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, প্রফেসর কে বি এম মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর আফরাউজ্জামান খান, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ওয়ারদাতুল আকমাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সভাপতি প্রফেসর আবুল কাশেম, বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স সমিতি সাধারণ সাধারণ ডা. শামীম চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি একটি ন্যাক্যারজনক ঘটনা। এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’জন শিক্ষককে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু প্রকৃত দোষীরা শাস্তি না পাওয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। আমরা শিক্ষক সমাজ আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসময় শিক্ষকেরা অবিলম্বে প্রফেসর শফিউল ইসলামের হত্যাকরীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সোম-মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন:
এদিকে প্রফেসর শফিউল ইসলামকে হত্যার প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচী দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, সোমবার এবং মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, আগামী সাতদিন কালো ব্যাজ ধারণ এবং আগামী ১৯ নভেম্বর নগরীর জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর প্রনব কুমার পা-ে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. কামরুল হাসান মজুজদারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় জুবেরী ভবনে সন্ধ্যায় এক জরুরী সভার আহ্বায়ন করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রফেসর শফিউল ইসলামের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যাবস্থা না করলে পরবর্তী আরও কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
প্রশাসনের মামলা দায়ের:
এদিকে প্রফেসর শফিউল ইসলামের হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অজ্ঞতনামা আসামী উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার প্রফেসর এন্তাজুল হক বাদী হয়ে এই মামলা করেন।
প্রগতিশীল ছাত্রজোটের বিক্ষোভ:
এদিকে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোট। বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সহ-সভাপতি খাদিমুল বাশার, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সহ-সভাপতি মিঠুন রায়, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন সুজন। সমাবেশ থেকে অবিলম্বের হত্যাকান্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
সাংস্কৃতিক জোটের শোক র‌্যালী:
শিক্ষক হত্যার ঘটনায় সকাল ১০টায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে শোক-পদযাত্রা বের করে বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোট। পদযাত্রাটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট্য নাট্যজন মলয় কুমার ভৌমিক, প্রফেসর আনন্দ কুমার সাহা, প্রফেসর এসএম আবু বকর, প্রফেসর নীলুফার সুলাতানা, শাহ আযম শান্তুনু প্রমুখ। সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল:
এদিকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় টুকিটাকি চত্ত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষকদের সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের তিন দিনের শোক:
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর একেএম শফিউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বিভাগের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কার্যালয়ে বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ওয়ারদাতুল আকমাম সাংবাদিকদের জানান, নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিভাগের পক্ষ থেকে রোববারসহ তিনদিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হবে।
তিনদিনের শোক চলাকালে বিভাগের সব ধরনের ক্লাশ-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। সোমবার ও মঙ্গলবার বেলা ১১টায় হত্যাকা-ের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া হত্যকা-ের ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিভাগের পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হবে বলে জানান বিভাগের সভাপতি।
মামলা:
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, এখনও কোন মামলা হয় নি। তবে পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন জানান, ‘বিশ্ববিদালয়ের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
মরহুম শফিউলের শ্যালক শাকিল আহম্মেদ বলেন, সোমবার সকালে নিহতের পরিবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কথা বলার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবেন। এরপরই মামলা করা হবে বলে জানান তিনি।
‘ক্লু’ পায়নি পুলিশ:
প্রফেসর শফিউলকে কেন হত্যা করা হলেও এ বিষয়ে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ হত্যার নেপথ্য উদঘাটন করতে পারিনি। তার প্রতিবেশী এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বললেও তারা স্পষ্ট ভাবে কিছুই বলতে পারেনি। হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পারিবারিক দ্বন্দ্বসহ চারটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় রবিবার দুপুর পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েক জনকে আটক করেছে পুলিশ।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান জানান, এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে গোয়েন্দা পুলিশসহ বেশ কয়েকটি টিম কাজ করছে। এরই মধ্যে বেশ কিছু বিষয় সামনে রেখে কাজ করা হচ্ছে। এগুলো হলো- পারিবারিক দ্বন্দ্ব, প্রতিবেশীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও জঙ্গি হামলা। এসবের মধ্যে পারিবারিক ও জঙ্গি হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। খুব দ্রুতই হত্যাকারীদের সনাক্ত করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
দৃষ্টি ঘোরাতে জঙ্গি সংগঠনের আত্বপ্রকাশ!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শফিউল হত্যার বিষয়ে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ঘোরাতে আনাসার বাহিনীর আত্মপ্রকাশ করা হয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
ফেসবুক পেজটিতে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামের জঙ্গি সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে খোলা পেজটি শফিউল ইসলামের হত্যার প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা পর খোলা হয়।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামের এ জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশের কোনো অঞ্চলেই নেই। এই পেজটি খোলা হয়েছে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে। এর আগেও কোনা পোস্ট নেই। শুধু শফিউল হত্যার ব্যাপারেই এখানে পোস্ট দেয়া হয়েছে। তদন্ত কাজে বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এ সংগঠন। আসলে এ সংগঠনের কোনো হদিস নেই।
তবে কোথা থেকে এ পেজটি খোলা হযেছে সে বিষয় নিয়ে খোজ নিয়ে যদি বের করা সম্ভব হয় তাহলে হয়তো আসল হত্যাকরীদের বের করা সম্ভব হবে।
মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, আসলে কারা এ পেজটি খুলেছে এতো দ্রুত জানা সম্ভব নয়। মূল হোতাদের অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। আর তদন্তের স্বর্থে এখন খুব বেশি কিছু বলা যাবে না।
অভিযানে ইসলামী কলেজের অধ্যক্ষসহ আটক-১৫:
এদিকে শফিউল ইসলামের হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে অবস্থিত ‘ইসলামীয়া কলেজ’র অধ্যক্ষ হুমায়ূন আহমেদহ মোট ২০জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের করে করা হয়।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (পূর্ব) কেএম নাহিদুল ইসলাম জানান, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নগরীর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ন আহমেদসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়াও পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও এলাকায় অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি। এর আগে শনিবার রাতে হত্যার ঘটনার প্রত্যাক্ষদর্শী হাসিব ও দিপু নামের দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মতিহার থানায় নিয়ে আসা হয়।
শফিউলের সংক্ষিপ্ত জিবনী:
বগুড়ার সোনাতলায় ছোট থেকে বড় হন তিনি। সোনাতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৮১ সালে এসএসসি এবং স্থানীয় কলেজ থেকে ১৯৮৩ সালে এইচএসসি পাশ করেন তিনি। পরে ১৯৮৪ সালে ভর্তি হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে।
১৯৮৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ¯œাতক পাশ করার পর সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন ১৯৯১ সালে। এরপর থেকে শুরু হয় তার শিক্ষক জীবন। শিক্ষকতা করতে যেয়ে তিনি একাধিক গবেষণা প্রবন্ধ বের করেছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন বিভাগের সভাপতি হিসেবে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পারিবারিকভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়:
সফিউল ইসলাম প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ দিন ধরে তার পারিবারিক ঝামেলা চলছিলো। কিছুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যর কারণে তাকে ডিভোর্স দেন। এরপর থেকে ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগেও তার ঝামেলা চলছিলো বলে জানা গেছে। জানা গেছে, শফিউল ইসলামের গ্রামের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায়। ছিল তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর, তিনি রাবির আবারো বিয়ে করেন তিনি। তবে তারসঙ্গে সংসার টেকেনি বেশি দিন। পরে তৃতীয় বিয়ে করলেও শেষ পর্যন্ত তার সাথেও মনোমালিন্য হওয়ায় কিছু দিন আগে ১০ লাখ টাকা দিয়ে তাকে ডিভোর্স দেন। এরপর থেকে তিনি একাই রাজশাহী নগরীর চৌদপায় এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস করতেন। বাড়িতে তার দুইজন কর্মচারী হিসাবে থাকতেন বলে জানা গেছে। তিনি যৌন কর্মীদের নিয়ে কাজ করতেন বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গবেষণা ও শিক্ষকতার পাশাপাশি বাউল সাধনা করতেন প্রফেসর শফিউল ইসলাম। প্রতি সোমবার তার বাসায় বাউল সাধনার আসর বসতো।
দাফন সম্পন্ন:
শফিউল ইসলামের প্রথম নামাজে জানাজা শনিবার রাত ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাতেই তার লাশ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার শালমারা ইউনিয়ানের হিয়াতপুর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রোববার বাদ জোহর জানাযার নামাজের পরে বাবার কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হন।
উল্লেখ্য, শনিবার বিকেলে বাসায় ফেরার পথে নগরীর বিহাস এলাকায় দুর্বৃত্তরা শিক্ষকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভার্তি করে। পরে বিকেল ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

Need Ads
error: কপি হবে না!