ads

বুধবার , ৮ অক্টোবর ২০১৪ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ভারতীয় জেলেদের ইলিশ আগ্রাসন

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
অক্টোবর ৮, ২০১৪ ৬:২৭ অপরাহ্ণ

hilsaমো.মহসিন মাতুব্বর, আমতলী (বরগুনা) : প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশি জেলেদের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা থাকে প্রতিবছর। এ বছরও ৫ অক্টোবার থেকে আগামী ১১ দিন ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞাকালে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে ইলিশ শিকারের মহোৎসব শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের জেলে সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে বঙ্গোপসাগরের জলসীমায় প্রবেশ করে ইলিশ শিকার করছে ভারতীয় জেলেরা। এদিকে অনেক দেশি জেলেও এ সময়ে অতিমুনাফার আশায় লুকিয়ে ইলিশ শিকার করছে বলে জানা গেছে। এতে ইলিশের বংশবৃদ্ধির সরকারি পরিকল্পনা মাঠে মারা যাচ্ছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

Shamol Bangla Ads

সূত্র জানায়, সরকার আজ থেকে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের উপকূলীয় ৪টি অভয়াশ্রমসংলগ্ন এলাকায় ইলিশ শিকার নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় ইলিশ ডিম ছাড়ে। সুস্বাদু মাছটির বংশবৃদ্ধির জন্যই এ পরিকল্পনা। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ইলিশ বিপণন, পরিবহন ও সংরণ দ-নীয় অপরাধ। এ আদেশ অমান্য করলে অভিযুক্তদের এক মাস থেকে এক বছর কারাদ- ও ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। কিন্তু ভারতীয় জেলেরা নিষিদ্ধ সময়েই বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে একচেটিয়া ইলিশ শিকার করে থাকে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় দেশের জেলে সংগঠনগুলোর নেতারা ভারত ও মিয়ানমারের যৌথ আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনায় সাগরাঞ্চলে ইলিশ মাছের মজুদ বৃদ্ধির জন্য অভয়াশ্রম ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এক দেশ ইলিশ সংরণে কাজ করে গেলে আর অন্য দেশ অতি আহরণ করলে দেশগুলোর জেলেদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেবে বলে জানান তারা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাথরঘাটা উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে পৌরসভার নিবন্ধিত জেলেদের আইডি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে পাথরঘাটা পৌর মেয়র মল্লিক মোহাম্মদ আইউব প্রজনন মৌসুমে ভারতীয় জেলেদের মাছ শিকার বন্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। এদিকে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও শ্রমিক ইউনিয়ন সভাপতি আবদুল মান্নান মাঝি অভিযোগ করেন, প্রতিবছর প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশি জেলেদের ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞার সুযোগে ভারতীয় জেলেরা বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ অংশ ঢুকে একচেটিয়া মাছ শিকার করে। এতে প্রজনন মৌসুমে বাংলাদেশের ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা ও উপকারিতা ব্যাহত হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বরগুনা ও ঝালকাঠি আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য মোসাঃ নাসিমা ফেরদৌসি বলেন, বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে শিগগির লিখিতভাবে জানানো হবে, যেন বাংলাদেশে সরকারিভাবে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধের সময় ভারত বা অন্য কোনো দেশের জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে অবৈধভাবে ইলিশ শিকার করতে না পারে।
বাংলাদেশের মতো ভারতের গঙ্গা অববাহিকায় হুগলি-মাতলা মোহনা অঞ্চল, গোদাবরী, দয়া নদীতে ইলিশ মাছের প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করে ভারত সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শুধু ডিমওয়ালা মা-ইলিশ রাই যথেষ্ট নয়, পুরুষ ও স্ত্রী ইলিশ মাছের অনুপাতের ভারসাম্য রাও জরুরি। গবেষকরা বলেন, সম্প্রতি ইলিশ মাছের ডিম ধারণমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
এদিকে দেশের অনেক জেলেও সরকারি এ নিষেধাজ্ঞা মানছে না। জানা গেছে, এ সময়ে উপকূলের অনেক ট্রলার মালিক ও জেলে অতিমুনাফার আশায় ১২-১৩ দিনের জন্য গভীর সমুদ্রে অবস্থান নিয়ে ইলিশ শিকার করে। পরে বিভিন্ন ঘাট কর্তৃপকে ম্যানেজ করে রাতে সেসব মাছ বিক্রি করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। অন্যদিকে মৎস্য অধিদপ্তর, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ডের বড় ধরনের কোনো ট্রলার বা বাহন না থাকায় বড় ট্রলারগুলোর নাগাল তারা পায় না।
এ ব্যাপারে আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৎস্য কর্মকর্তাসহ ১১-১২ জনের সমন্বয়ে একটি করে টিম করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে মিটিং করে মাছ ধরতে না যাওয়ার জন্য জেলেদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেই সঙ্গে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নদী উপকূলীয় এলাকায় মাইকিং ও ব্যানার-লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে।

Need Ads
error: কপি হবে না!