ডুমুরিয়া(খুলনা)প্রতিনিধিঃ ডুমুরিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রী ও আদরের সন্তানের মুখ দেখতে এসে জামাই’র রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার উপজেলার নরনিয়া গ্রামে। থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার শেষে মর্গে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, মুঠোফোনে প্রেমজ সম্পর্ক শেষে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের নরনিয়া গ্রামের ইমদাদ বিশ্বাসের কলেজপড়ুয়া মেয়ে রহিমা বেগমের(৩০) সাথে বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার পুটিবাড়ি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে জাকির হোসেনের (৩৫) প্রায় চার বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে মৌমি নামের একটি কন্যা সন্তান জম্মগ্রহণ করে। কিছুদিন পরে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের কারণে রহিমা মেয়েসহ বাপেরবাড়ি চলে আসে ও প্রায় চারমাস আগে জাকিরকে তালাক দেয়। কিন্তু জাকির প্রায়ই স্ত্রীর ও আদরের কন্যার দাবি নিয়ে উপজেলার নরনিয়া গ্রামে বেড়াতে আসে। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে আবারও শ্বশুরবাড়ি এসে রাতের খাবার খেয়ে পাশের চাচা শ্বশুর মোশাররফ বিশ্বাসের বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন বুধবার ভোররাতে জাকির হঠাৎ অসুন্থ হলে তাকে ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরোত-হাল রির্পোট শেষে মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম বলেন, তার সাথে মুঠোফোনে সম্পর্ক শেষে বিয়ে হয়। এরপর দেখি সে নেশা করে। সংসারে অশান্তি বেড়ে যায়। এরপর আমি তাকে তালাক দেই। কিন্তু সে আমাকে ছাড়ে না। তবে সে কি করে মারা গেছে আমি তার কিছুই জানি না। নিহতের ভগ্নিপতি জাহিদ হোসেন জানান, তাদের সংসারে বিরোধ ও তালাকের বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ঘটনার দিন সে রাত ১১টা পর্যন্ত আমাদের সাথে কথা বলেছে। পরে সকালে খবর পাই জাকির মারা গেছে। ডুমুরিয়া থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, শ্বশুর বাড়ি এসে একজন মারা গেছে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারের পর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সুরোত-হাল রিপোর্টে লাশের শরীরে তেমন কোন আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে তার নিহতের ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে।




