ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার চরফ্যাশনের দুলারহাট আদর্শ ডিগ্রীকলেজে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ এবং দুবৃত্তদের হামলা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে মারধরের পরস্পর বিরোধী অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই হামলায় ৭/৮ জন শিক্ষার্থী আহত এবং একজন খন্ডকালিন শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ করা হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে একজন শিক্ষক নিয়োগ ইস্যু নিয়ে গত ৬ মাসের মধ্যে কলেজে এটা তৃতীয় দফায় হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ একেএম শাহ আলম। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেছে বলে চরফ্যাশন থানার ওসি জানিয়েছেন।
কলেজ অধ্যক্ষ একেএম শাহ আলম অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে কলেজের একাদশ শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হলে ৭/৮ জনের দুর্বৃত্তদল কলেজে হামলা করে। হামলাকারীরা পরীক্ষা হলের ভেতরে ঢুকে পরীক্ষার্থীদের মারধর এবং উত্তরপত্র তছনছ করে। এসময় বাঁধা দিতে গেলে দুবৃত্তরা ক্যামেষ্ট্রির খন্ড কালিন শিক্ষক ইকবাল হোসেনকে মারধর করেছে বলে অধ্যক্ষ জানান। অধ্যক্ষ আরো অভিযোগ করেন, কলেজের ইংরেজি বিষয়ে নিয়োগ প্রত্যাশী মোস্তফা কামাল দুর্বৃত্তদের দিয়ে কলেজে হামলা করেছেন। হামলার নেতৃত্বদানকারী নিরব মোস্তফা কামাল’র ভাই বলে অধ্যক্ষ জানিয়েছেন। অপরদিকে নিয়োগ প্রত্যাশী মোস্তফা কামাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন কলেজের দর্শণ বিষয়ে মোশারেফ হোসেন নামে একজন শিক্ষককে গোপনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ কৌশলে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে অধ্যক্ষের এমন কারসাজির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা ১২ ম সোমবার পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ঘটনাকে ভিন্ন খাতে চালানোর জন্য অধ্যক্ষ এখন হামলার কাল্পনিক তথ্য প্রচার করছে।
কলেজের ইংরেজি প্রভাষক পদে নিয়োগ নিয়ে বছরের বেশী সময় ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যার ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বর ও এপ্রিল এবং গতকাল সোমবার পর্যন্ত তিন দফায় কলেজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমাবেশ এবং কলেজে হামলা ভাংচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
চরফ্যাশন থানার ওসি আবুল বাসার জানান,পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।
ভোলার তজুমদ্দিনে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

ভোলার তজুমদ্দিনে দ্বীপ চরজহির উদ্দিনে লাঠিয়াল বাহিনী পিটিয়ে হত্যা করেছে কাজল (৩৫) নামে এক যুবককে। নিহত কাজল লাশ পুলিশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলায় প্রেরন করেছেন। তবে এ হত্যার ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর জহির উদ্দিন সোনাপুর ৫নং ওয়ার্ডের মফিজের ছেলে কাজল একই এলাকার কাঞ্চনের মেয়ে জোসনাকে ৪ বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তার পরিবারে প্রায় ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকত। সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে কাজল ও তার স্ত্রী জোসনার সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে কাজল তার স্ত্রীকে মারপিট করতে চাইলে তার শালা মিরাজের স্ত্রী তাকে বাধা দিতে যায়। এ সময় শালার বউ’র গায়ে লাঠির আঘাত লাগে। এঘটনায় মিরাজের স্ত্রী রোজিনা চরজহির উদ্দিন ৪নং ওয়ার্ডে বাবার বাড়িতে খবর দিলে মিরাজের শশুর মহসিন লাঠিয়ালের নেতৃত্বে তার ছেলে মহিউদ্দিন, জামাই সাগর, মিরাজ, বিয়াই কাঞ্চন, আলী আহাম্মেদ, মোতাহার ও নয়ন এসে লাঠি সোটা নিয়ে কাজলকে (৩৫) পিটিয়ে দিন দুপুরে প্রকাশ্যে ঘটনাস্থলে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ভোলা মর্গে প্রেরন করে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। চরজহির উদ্দিন তদন্ত কেন্দ্রর ইনচার্জ এসআই তৈয়বুর রহমান জানান, কাজলের শশুর পক্ষের লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। এ বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম সুলতান মাহমুদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের ভোলা মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা জানায় , চরজহির উদ্দিনে মহসিন লাঠিয়াল বাহিনীর নেতৃত্বে তার পরিবারের অন্য সদস্যরা মেঘনায় নৌ-ডাকাতি, তেল পাচার চক্রের নিয়ন্ত্রন, মদ, গাজাসহ নিশা জাতীয় দ্রব্য ও খুন হত্যা, ধর্ষনের মত গুরুতর অপরাধ নিয়ন্ত্রন করছেন।




