অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) :বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পাঁচটি গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে। শুক্রবার ভোররাতে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় ওইসব গ্রামের ৭ নারী-পুরুষ ও শিশু নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে শোকার্ত পরিবারগুলোকে সান্তনা দিতে ছুটে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্ল¬াহ। গতকাল শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থেকে ঢাকাগামী গেøাবাল পরিবহনটি হামলার আশঙ্কায় আগৈলঝাড়া থানা হেফাজতে রাখা হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার ভোর রাতে ঢাকা থেকে আগৈলঝাড়াগামী গেøাাবাল পরিবহনের সাথে ফরিদপুরের রাজবাড়ীর বসন্তপুরের মজলিসপুর নামক এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে গেøাবাল পরিবহনটি দুম্ড়ে মুচ্রে স্টাফ ও যাত্রী নিহত হয়। নিহতেরা হলেন- আগৈলঝাড়ার উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা বাদশা হাওলাদারের পুত্র আমবৌলা গ্রামের শামিউল বাশার সাফিন, ফুল্লশ্রী গ্রামের শিক্ষানুরাগী পরেশ রায়, নাগরা গ্রামের জুয়েল ফকির, ছবিখাঁরপাড় গ্রামের রতন সরকার, পূর্ব পয়সা গ্রামের নাসিমা বেগম ও তার ৬ মাসের মেয়ে জান্নাত, কান্দিরপাড় গ্রামের নিপা হালদার। নিহত ৭ জনের বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। মৃত্যুর সংবাদে ওই সব বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। শিক্ষানুরাগী পরেশ রায় ও আ’লীগ নেতা বাদশা হাওলাদারের ছেলে সাফিন হাওলাদারের পরিবারকে সমবেদনা ও সান্তনা দিতে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আব্দুল্ল¬াহ্ এমপি। এসময় তার সাথে ছিলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম মোর্তুজা খান, উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ইউছুফ মোল্লা, গৌরনদী পৌর মেয়র হারিছুর রহমান হারিছ প্রমুখ। দূর্ঘটনায় নিহতের শোকাহত পরিবারবর্গকে সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বরিশাল-২ আসনের এমপি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস, অগ্রণী ব্যাংক পরিচালক এ্যাড. বলরাম পোদ্দার প্রমুখ। তবে উত্তেজিত জনগণের হামলা-ভাংচুরের আশঙ্কায় গতকাল শুক্রবার সকালে আগৈলঝাড়া থেকে ঢাকাগামী গেøাবাল পরিবহনটি পয়সারহাট থেকে এনে আগৈলঝাড়া থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া সদরে ১ কিলোমিটার সড়কের কাজ নিম্নমানের আশঙ্কা: ৮ ফুটের বরাদ্দ দিয়েই ১০ ফুট প্রশস্তকরণের কাজ চলছে

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়কটির প্রশস্তকরণ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে আইন শৃঙ্খলা সভায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এবিষয়ে বরিশাল জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র সড়টি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় টেন্ডারের আহŸাণ করা হয়। ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডারের কাজটি পায় শরীফ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। থানা সংলগ্ন ব্রিজ থেকে ১নং ব্রিজ পর্যন্ত সংস্কার কাজ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শুরু করে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সড়কটি ৮ফুট প্রশস্ত করে কাজ শুরু করে। উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় যাতায়াতের একমাত্র সড়কটি ৮ফুট প্রশস্ত করায় ওই সড়কে দু’টি যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হবে। একারণে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় বক্তরা সড়কটির প্রশস্তকরণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করে। ওইদিন সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরিশাল জেলা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীকে রাস্তাটি প্রশস্ততা বৃদ্ধিকরণের জন্য জানান। ওই সভায় উপজেলা প্রকৌশলী রাজকুমার গাইনকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম তালুকদার জিজ্ঞাসা করলে তিনি পূর্বের ন্যায় কাজটি করা হচ্ছে বলে জানান। একটি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার থেকে সড়কটি ৮ ফুটের স্থলে প্রশস্ততা বাড়িয়ে ১০ ফুট করা হচ্ছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ৮ফুটের মালামাল দিয়ে ১০ফুট প্রশস্ত করবে বলে এলজিইডির একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। একই মালামাল দিয়ে ২ ফুট রাস্তা বেশী প্রশস্ত করায় কাজের নিম্নমানের হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন জানান, আইন শৃঙ্খলা সভায় আলোচনার পরে দু’ফুট রাস্তা প্রশস্তকরণ করা হচ্ছে।




