আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাও) : ঠাকুরগাওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ করনাইট গ্রামের ১১৯ বছর বয়সী নজর মোহাম্মদ শতাব্দীর মাইলফলক হিসেবে বেঁচে আছেন। মৃত তিফাইত হোসেনের ছেলে নজর মোহাম্মদ।

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছরকে অনেক পিছনে ফেলে নজর মোহাম্মদ ১১৯ বছর বয়সেও স¤পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় চলাফেরা করতে পারে। মসজিদে নামাজ পড়তে যায় হাটবাজারসহ একাকি যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়।
বয়সের ভারে নেতিয়ে পড়া করনাইট গ্রামের ৯২ বছর বয়সী হাফিজউদ্দিন জানান, নজর মোহাম্মদ’র ৫ স্ত্রীর ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে। ৭৫ বছর বয়সে বড় ছেলে মারা যায়। মেজ ছেলের বয়স এখন ৭৬ বছর বলে জানা যায়। নজর মোহাম্মদের চারটি বিয়েতে উকিল দিয়েছেন হাফিজউদ্দিন । নজর মোহাম্মদের কয়েক পুরুষ নেকমরদের করনাইট গ্রামে বসবাস করে আসলেও পূর্ব পুরুষরা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা হরিণমারির বাসিন্দা ছিলেন। নজর আলী এখনও লিখতে পড়তে পারলেও কানে খুবই কম শোনেন।
নজর মোহাম্মদ অতিতের স্মৃতির পাতা খুলে জানান, জমিদারি প্রথা এবং ইংরেজ শাসনামলের বিলুপ্তির সময় ১৯৪৭ সালে তাঁর বয়স ৫০ পেরিয়েছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ১৯৩৯ সাল ও ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বিপক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি যুদ্ধে না গেলেও তার পরিচিত অনেকেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁদের কেউ বেঁচে নেই।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯০১ সালে ভর্তি হয়ে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন এই প্রবীণ ব্যক্তি। বাঁশের কলম বানিয়ে কলাপাতার উপর লিখে পড়ালেখা করতে হতো সে সময়। মাটির পাত্রে অনেক্ষণ চাল ভেজে তা পুড়িয়ে ফেলা হতো। পুড়া চাল পানি দিয়ে বেঁটে ছাঁকুনি দিয়ে কালি তৈরী করা হতো।
নজর মোহাম্মদ ১১৯ বছর বয়সেও অনায়াসে বইয়ের পড়া পড়তে পারেন। দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসাব খাতায় লিখে রাখেন। প্রতিনিয়ত আহারের সাথে নিয়মিত দুধ পান, পরিশ্রম এবং জীবনে নিয়মানুবর্তিতার কারনে এখনও সুস্থ আছেন তিনি। নজর মোহাম্মদ চতুর্থ প্রজন্ম, নাতি নাতনিসহ অর্ধশত বংশধর দেখেছেন বলে জানান।
নজর মোহাম্মদের পঞ্চম স্ত্রী ৪৭ বছর বয়সী রেবেকা স্বামীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, এবয়সেও তার স্বামী একাকি চলাফেরা করতে পারছে শুকরিয়া আল্লাহতায়ালার কাছে।
নজর মোহাম্মদ জানান, ১৯২৬ সালে কলকাতা থেকে তিনি এক টাকা দামে একটি ধুতি কিনে আনেন। এলাকার যে কেউ বিয়ে করতে গেলে এক টাকা দামের ধুতি নিয়ে যেত। শতাধিক ব্যক্তি ওই ধুতি পড়ে বিয়ে করেছেন। তাঁরা কেউ আজ বেঁচে নেই। সে সময় এক টাকায় ১০ সের চিনি আর এক মণ চাল বিক্রি হতো।
ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, নজর মোহাম্মদকে ছোট বেলা থেকে এমনই দেখে আসছেন। তাঁর দাদারা নজর মোহাম্মদের সমবয়সী।
শুধু ঠাকুরগাও জেলা নয় বৃহত্তর দিনাজপুর’র মধ্যে নজর মোহাম্মদের চেয়ে বেশী বয়সী মানুষের সন্ধান মেলেনি। সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি নজর মোহাম্মদ ১১৯ বছর বয়সে শতাব্দীর মাইলফলক’র স্বাক্ষর বহন করছেন।




