নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদী জেলার ৩টি উপজেলার ভোট সহিংসতায় ফটিক,আলমগীর, ইলিয়াছ ও বেলাল নামে ৬ ব্যক্তি আহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে রায়পুরার নলবাটা ভোট কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০ টায় ফটিক নামে বিএনপির এক ভোট কর্মীকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে আ’লীগ নেতা গোলজার মেম্বারের কর্মীরা। মারাত্মক আহত অবস্থায় ফটিককে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনোহরদী উপজেলার ঘোষগাও সেন্টারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বীরুর ভাই হীরু ও বাবুর নেতৃত্বে আ’লীগ কর্মীরা অবাধে সীল মারার সময় ছবি তুলতে গেলে তারা বেলাল নামে একজন ফটো সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করে। তাকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১ টায় নরসিংদীর মাধবদী খিদিরকান্দী ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট দিতে গিয়ে সাংবাদিকের হাতে ধরা পড়ে যায় আওয়ামী লীগ ভোট কর্মী। এতে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকারিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সাংবাদিক আবুল ফায়েজের উপর চড়াও হয়। এসময় ইলিয়াছ নামে বিএনপির একজন ভোটকর্মী এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়ার বাহিনী তাকে কুকুড়ের মত পিটিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুড়ে ফেলে দেয়। পরে সেখান থেকে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরন করে। গদাইরচর কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলায় ১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ১ জন পুলিং অফিসার আহত হয়।

এদিকে ভোট কেন্দ্র দখলের আরো খবর পাওয়া গেছে। ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া বাহিনী সকাল সাড়ে ১১ টায় খিদিরকান্দী ভোট কেন্দ্র দখল করে নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মনজুর এজেন্টদের বের করে দিয়ে অবাধে সীল মারে। কাঠালিয়ার মৈশাদী মাদ্রাসা ভোট কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে জাল ভোট প্রদান করে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। বৈধ ভোটাররা ভোট দিতে এসে অনেকেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে সাংবাদিকরা প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুর রহিমকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে খারাপ আচরন করেন। এছাড়া একই ইউনিয়নের ফজুরকান্দী, আব্দুলাকান্দী, চৌঘরিয়া ভোট কেন্দ্র আওয়ামী লীগ কর্মীরা জোরপূর্বক দখলে নিয়ে এক চেটিয়া সীল মারে। চরাঞ্চলের আলোকবালী ইউনিয়নের মুরাদনগর, বাখরনগর ও আলোকবালী ভোট কেন্দ্র জোরপূর্বক দখলে নিয়ে সীল মারে আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান দিপু বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। এছাড়া বেলা আড়াইটায় সদর উপজেলার দগরিয়া ভোট কেন্দ্র দখলের জন্য হামলা চালায় আওয়ামী লীগ কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ অবস্থা বুঝে ফাকা গুলি বর্ষণ করলে তারা সরে যায়।
এদিকে ভোটগ্রহণ চলাকালে মোটরসাইকেল দিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাবার সময় মোবাইল কোর্টের খপ্পরে পড়েন রায়পুরা উপজেলার মহেষপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান চান মিয়া। মোবাইল কোর্ট তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি কোন সদোত্তর দিকে পারেননি। ফলে মোবাইল কোর্ট তাকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়।




