ads

বুধবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নতুন শুরুর অপেক্ষায় টাইগাররা

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৪ ১২:৫০ অপরাহ্ণ

Bangladesh+Practise-1শ্যামলবাংলা ডেস্ক : সেই বিরেন্দর শেবাগও নেই, ‘বাংলাদেশ অর্ডিনারি দল’ বলে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে খেপিয়ে দেওয়ারও কেউ নেই। সাকিব আল হাসানও নেই যে, ম্যাচের আগেই দু’কথা বলে প্রতিপক্ষের হাইপ্রেশার বাড়িয়ে দেবেন।

Shamol Bangla Ads

আজ ফতুল্লায় যে দুটি দল মুখোমুখি হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের মধ্যেই অসংখ্য শূন্যতা। এ কারণেই কি বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ, অথচ ‘’টিকিট চাই’ হাহাকার নেই? নাকি ঘরের মাঠে শ্রীলংকার কাছে সিরিজ হারের কারণেই টাইগারদের সেই চঞ্চলতা থমকে গেছে, উত্তেজনার পারদ চড়েনি সমর্থকদের প্রাণে? জিজ্ঞাসাটা ছিল দিল্লি থেকে আসা এক ভারতীয় সাংবাদিকের, যার উত্তরটিও হয়তো প্রশ্নটির মধ্যেই লুকিয়ে; কিন্তু সবকিছুই কি সাদা চোখে দেখা যায়?
গতকাল মিরপুরে মুশফিকুর রহিমের যে দলটি অনুশীলন করলেন, তার মধ্যে হয়তো মারমার কাটকাট ভাবটা ছিল না। অথচ ভেতরে জমে থাকা বারুদ তাজাই ছিল। টোকা মারতেই যা বেরিয়ে পড়ল মাশরাফির মধ্য থেকে। ‘বিশ্বাস করুন মাত্র একটি জয়, একটি জয় পেলেই দেখবেন আমাদের এই দলটি আগের সে জায়গায় ফিরে গেছে। যদি ভারতের বিপক্ষে শুরুটা আমাদের ভালো হয়, তাহলে দেখবেন দলের নতুন ছেলেরাই ঘাবড়ে দেবে ওদের…।
ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে নিয়মমাফিক সংবাদ সম্মেলনে নয়, মাশরাফি তার ভেতরের এ কথাগুলো বলছিলেন সাংবাদ সম্মেলন থেকে বেরিয়ে পরিচিত সাংবাদিকদের কাছে। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে এই মাশরাফিরই অভিজ্ঞতা আছে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৩ টি জয়েরই সাক্ষী থাকার। ভারতের বিপক্ষে নিজের প্রথম ম্যাচেই জয় দেখেছিলেন মাশরাফি। সেটা ছিল ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর। এরপর ২০০৭ বিশ্বকাপেও মাশরাফিরা রাহুল দ্রাবিড়দের কাঁদিয়েছিলেন পোর্ট অব স্পেনে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৬ মার্চ, এশিয়া কাপেও শচীনের সেঞ্চুরি মাটি করে দিয়েছিলেন। পরিসংখ্যান বলে, দুই দলের মুখোমুখিতে ২৪ ম্যাচের মধ্যে এই তিনটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ এবং ইতিহাস বলে ওই ৩ টি ম্যাচের আগেই বাংলাদেশ দল সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল। সমালোচনায় জর্জরিত বাংলাদেশ দল অনেকটাই চাপের মুখে ছিল।
এবারও বাংলাদেশ ড্রেসিংরুমে তেমনই একটা গুমোট পরিবেশ। এশিয়া কাপের স্কোয়াড নির্বাচন নিয়ে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অসন্তুষ্ট। তাকে না বলে স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রকাশ্যেই নির্বাচকপ্রধানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। ড্রেসিংরুমে অশোভন ইঙ্গিত করায় নিষিদ্ধ রয়েছেন সাকিব আল হাসান। তামিম ইকবালও ঘারের চোট থেকে মুক্ত হননি। মুশফিক নিজেই জানিয়েছেন, তিনিও শতভাগ ফিট নন, মাশরাফিরও হাঁটুতে ব্যথা আছে। এত সমস্যার মধ্যে শামসুর রহমান শুভ, মুমিনুল হক সৌরভ, এনামুল হক বিজয়, সোহাগ গাজীরা কি পারবেন শিখর ধাওয়ানদের রুখে দিতে? তারা প্রত্যেকেই যে এই প্রথম ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে নামছেন। র‌্যাংকিংয়ের ২ নম্বর দলটিকে কি পারবেন মাটিতে নামাতে? জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তাদেরই কয়েকজনকে। কোচ শেন জার্গেনসেনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় গুছিয়ে উত্তর দিতে পারেননি। তবে মুশফিকের এই নতুন ব্রিগেডের প্রত্যেকেরই চোখে ছিল কিছু করে দেখানোর তীব্র ইচ্ছা।
বিরাট কোহলিরাও কিন্তু বাংলাদেশিদের মতোই সদ্য অতীতকে পেছনে ফেলতে চায়। কারণ তারাও সেই ডিসেম্বর থেকে এখন অবধি কোন ওয়ানডে ম্যাচ জিততে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে তারা ৩ ম্যাচ সিরিজ ০-২ তে আর নিউজিল্যান্ড গিয়ে ৫ ম্যাচের সিরিজ ০-৪তে হেরেছে। এশিয়া কাপ কাভার করতে আসা ভারতীয় সাংবাদিকরা মিরপুর থেকে নিজেদের অফিসে যে খবর পাঠাচ্ছে, তার বেশিরভাগই এই হারের গল্পগাথাগুলো নিয়ে। মহেন্দ্র সিং ধোনির অনুপস্থিতিতে আজকের ম্যাচে যে বিরাট কোহলির অধিনায়ত্বেরও পরীক্ষা হবে, সেটাও নিয়েও রিপোর্ট লিখেছেন অনেকে।
আদতে বাংলাদেশ এবং ভারত, দুই দলই সমস্যার এক বিন্দুতে দাঁড়িয়ে শুরু করছে আজকের ম্যাচ। সিরিজ হারতে হারতে দু’দলেরই মুখ তেতো হয়ে গেছে। দু’দলই চাইছে এশিয়া কাপের মঞ্চ থেকেই হারের বৃত্ত ভাঙতে। আর এ জন্য মুশফিকদের বিশ্বাস যেমন ঘরের মাঠ, তেমনি বিরাট কোহলিদেরও বিশ্বাস- ‘এটা অন্তত দক্ষিণ আফ্রিকা আর নিউজিল্যান্ডের মাঠ নয়।’
এশিয়া কাপের ওই ম্যাচের পর ভারতের বিপক্ষে আর কোন ম্যাচই খেলা হয়নি বাংলাদেশের। সে কারণেই হয়তো কোহলিদের মনে সেই এশিয়া কাপের বাংলাদেশ আতঙ্ক চেপে আছে। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর ২০১২-র সেই এশিয়া কাপ, দুটি বড় টুর্নামেন্টে বাংলাদেশই ছিল ভারতের দুঃখের কারণ। আবার এটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় আত্মবিশ্বাসের কারণ।

Need Ads
error: কপি হবে না!