ভোলা প্রতিনিধি : মোবাইল ব্যাংকিং’র বিকাশের কারণে ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের মেঘনা নদী ও সাগর মোহনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়। বেশ কয়েক মাস ধরে ভোলার মেঘনা নদী ও সাগর মোহনা থেকে জেলেদের অপহরণ করার পর মোবাইল ব্যাংকিং’র মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করছে ডাকাতরা। অপহরণের শিকার জেলে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা ও তারও বেশি পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করা হয়। গত এক মাসে অন্তত ১০০/১২০ জেলেকে এ পরিস্থিতির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের অপহরণ করে বিকাশে মুক্তিপণ আদায় করছে ডাকাতরা।

গত এক মাসেই দক্ষিণের জেলা ভোলায় শতধিক জেলে অপহরণের শিকার হয়েছে সাধারণ জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীরা । পরে তাদের চাহিদা মতো টাকা বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে অপহরিতদের ছেড়ে দেয়। ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নদীতে টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কুকরি-মুকরি ইউনিয়নের চর মনুরা মাছঘাটের আঃ মালেক জানান, মেঘনায় বর্তমান ইলিশ ধরার মৌসুম চললেও জেলেরা নদীতে যেতে ভয় পাচ্ছে।
গত ৫ ফের্রুয়ারী রাতে সোনার চর থেকে নাসির মোল্লা ও তার ভাই খলিলুর রহমানের নৌকায় ডাকাতরা হামলা চালায়। এসময় নৌকায় থাকা মালেক সহ অন্যদের বেদর মারধর করে ছেড়ে দিলে নাসির নামে একজনকে অপহরন করে চার লাক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। ডাকাতরা গত এক মাসে ওই ঘটের ১০-১৫টি নৌকায় হানা দিয়ে প্রায় ১০ জনকে অপহরণ করে ।
এদিকে একধিক জেলে জানায়, মোবাইলফোন দিয়ে বিকাশের নম্বর’র মাধ্যমে নৌকার মালিক ও মাছের আড়তদারদের কাছে টাকা দাবি করে। অন্যথায় অপহরণ ও জেলেদের প্রাণনরাশের হুমকি দেয়া হয়। এদিকে মেঘনার ভোলা, দৌলতখাঁন ও তজুমদ্দিনের মাছঘাট গুলো গুড়ে কয়েকজন মাঝির সঙ্গে আলাপ করে জানা যায় ।
গত এক মাসে তজুমদ্দিনের ডাকাত রুবেল বাহিনী মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৮০/৮৫টি নৌকায় হানা দিয়ে ৮০/৯০ জেলেকে অপহরণ করে।
বোরহানউদ্দিনের মির্জাকালু ঘাট,দৌলতখানের ভবানীপুর নতুন ঘাট, গুপ্তগঞ্জ,হাজিপুর , লালমোহনের বাত্তির খাল,মনপুরা রামনেওয়াজ ঘাট সহ মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে জেলেদের অপহরণ করে । পরে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
ভোলার প্রতিটি ঘাটে রয়েছে ডাকাতদের প্রতিনিধি। ডাকাতরা অপহরণে শিকার পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনের নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে টাকা পাঠাতে বলে । এরপর তাদের প্রতিনিধিরা টাক তুলতে পারলেই অপহৃতকে ছেড়ে দেয়া হয়।
একাধিক জেলে অভিযোগ করে বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং শুরু হওয়ার পর থেকেই বেড়েছে মেঘনা নদী ও সাগর মোহনায় অপহরণের সংখ্যা।
তবে লালমোহনের এক মাছ ব্যবসায়ী মোঃ ফারুক মাঝি বলেন, কোষ্টগার্ড ব্যস্ত থাকে জাল ও জাটকা ধরার কাজে । পুলিশ মাঝেমধ্যে অবশ্য অভিযান চালায়। আরো বলেন ,অপরাধীরা যেভাবে তৎপর তাতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে।
মেঘনার ডাকাতদের উৎপাত বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে তজুমদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) এ কে এম সুলতান মাহমুদ বলেন, জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সাথে জরুরী বৈঠকের ডাকা হয়েছে। তাদের সমস্যা শোনার পর কার্যকর ব্যবস্থানেয়া হবে।
ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান বলেন,নদীতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর জন্য দ্রæত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।




