এম লুৎফর রহমান, নরসিংদী : নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ১৮ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পুটিয়া বাজারের ত্রিমোহনী এলাকায় ওই হত্যাকান্ড ঘটে। নিহত মাহীন (৩০) জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল।

জানা গেছে, শিবপুর উপজেলার বংশিরদিয়া গ্রামের আব্দুল কাদিরের পুত্র মাহীন তার পিতার মৃত্যুর পর পুটিয়ার ত্রিমোহনীতে তাদের মার্কেট দেখাশুনা করতো। সে নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের নেতা তথা তার রাজনৈতিক কানেকশনের কারনে এলাকার বিভিন্ন ঝগড়া ফেসাদে ছোটখাট দয়দরবার করতো। শিবপুর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে সে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লার পক্ষে কাজ করে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের একটি অংশের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে পুটিয়া এলাকার জনৈক ব্যক্তির নামে বিকাশে ২০ হাজার টাকা আসে। এই টাকার অংক নিয়ে দাতা-গ্রহীতার মধ্যে বাক-বিতন্ডা হলে ঘটনাটি মাহীনকে জানানো হয়। মাহীন উভয় পক্ষকে ডেকে নিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয় এবং এক পক্ষের একটি ছেলে বেয়াদবিপূর্ণ আচরন করায় তাকে কয়েকটি থাপ্পর মারে। এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই টাইগার গ্রæপের ৭/৮ জন দুষ্কৃতকারী ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে মাহীনের উপর গিয়ে হামলা চালায়। তারা তাকে প্রথমে লাঠির আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। পরে তারা ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। রক্তাক্ত অবস্থায় মাহীন মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আশেপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রæত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে প্রেরণ করে। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শিবপুরসহ নরসিংদী জেলা শহরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতাকর্মীদের ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে দেখার জন্য হাসপাতালে ভীড় জমায়। খবর পেয়ে শিবপুরের এমপি আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা মাহীনকে দেখার জন্য ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাহীন হত্যাকান্ড কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই মাহীনকে হত্যা করা হয়েছে। খুনীরা যতবড় শক্তিশালীই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি অতিসত্বর মাহীনের খুনীদেরকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
এদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাহীনের লাশ নরসিংদী জেলা হাসপাতালে রক্ষিত ছিল।




