শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের শ্রীবরদীর উপজেলার মামদমারী গ্রামের ফুল মামুদের মেয়ে ফরিদা খাতুন (২৩)। তার বাবা একজন দিনমজুর। সে মা বাবার ঘরের তৃতীয় কন্যা সন্তান। বাবা মা দেখে শুনে তাকে বিয়ে দিয়েছিলেন এলাকার সুলতান হোসেনের সঙ্গে। তার স্বামী হোটেলে কাজ করে। আয়ও ভালো। কিন্তু বিয়ের পর জানতে পেল, সুলতান তার আপন বড় ভাবীর সঙ্গে প্রেম করে। বড় ভাইও বিষয়টি জানতেন। কিন্তু ফরিদার পরিবার জানত না। ফরিদার বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় বড় ভাবীকে বিয়ের সীদ্ধান্ত নেন সুলতান। বাধাঁ হয়ে দাঁড়ায় ফরিদার অস্মতি। পারিবারিকভাবে ফরিদার ওপর নির্যাতন নেমে আসে। কিন্তু টলেননি ফরিদা। এক রাতে ভাবী ফরিদাকে ধরে রাখেন। তার গাঁয়ে অ্যাসিড ঢেলে দেয় সুলতান। পিঠ, গলা ও বুক পুড়ে যায় ফরিদার। এর পর থেকে ফরিদা রাজধানীর বনানীর অ্যাসিড সারভাইস ফাইন্ডেশনে (এএসএফ) চিকিৎসা নিচ্ছে। সময়ের সঙ্গে শুকিয়েছে তার শরীরের ক্ষত। কিন্তু মনের ভিতর পুড়ছে তার জীবন, সংসার ভালবাসা।

আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ শেষ হলো গত বছর (২৫ নভেম্বর হতে ১০ ডিসেম্বর ২০১৩)। এর পর বেগম রোকেয়া দিবস (৯ ডিসেম্বর ২০১৩) পালন করে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়। এ কর্মসূচী সমগ্র দেশ ব্যাপী পরিচালিত হয়েছে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” শীর্ষক বিশেষ কার্যক্রমের আওতায়। এখানে নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছে যে সব নারী। এ ক্যাটাগরীতে উপজেলা থেকে জেলা পর্যায়ে এখন সর্বশ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মানে ভূষিত হয়েছে ফরিদা খাতুন।
তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবা শারমিন সনদ দিয়েছেন। এখন জেলা থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে তাকে পাঠানো হবে বলে সংশ্লিষ্ঠ সূত্র জানান। এ ছাড়াও ফরিদা খাতুন ব্র্যাকের স্থানীয় পল্লী সমাজের সভানেত্রী। আর দশটি মেয়েকে সচেতন করছে। সামাজিক কুসংস্কার দূর করে নিজেদের সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার এক নতুন সংগ্রামে যোগ দিয়েছে ফরিদা।
তবে তার মনের ক্ষত যেন কোনোভাবেই নিভছেনা। সব সময় যেন দাও দাও করে জ্বলছে। এর পরও তার স্বপ্নের আকাশে অনেক প্রত্যাশা। আবার নতুন করে সংসার বাধঁবে। যার ভালবাসায় সে ভুলে যাবে আগের সবকিছু।




