খুরশীদ আলম,
চাঁদপুর : গণভবন থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা এনেছি। আমরা চাই স্বাধীনতার সুফল এদেশের প্রত্যেকটি মানুষের ঘরে পৌঁছুক।

২০ নভেম্বর বুধবার দুপুর ১২টায় ওই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চাঁদপুরের ৯টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও তিনটি নতুন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের আমলে চাঁদপুরে ১ হাজার ৫শ’ ৫৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুত উৎপাদন বাড়িয়েছি। আগামীতে সরকারে আসতে পারলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেবো। প্রত্যেকটি জেলা এবং উপজেলায় একটি করে সরকারি কলেজ, স্কুল ও কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ করে দেবো। সেই সাথে সকল স্কুল-কলেজসহ শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করবো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। আর্থ সামাজিক উন্নতি হয়েছে। এ উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত রাখতে হবে। আর সেটি রাখতে হলে সব থেকে বেশি প্রয়োজন গত নির্বাচনে যেভাবে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন, ঠিক সেভাবে ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করুন।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি, প্রত্যেক ইউনিয়নে ইন্টারনেট সার্ভিস দিয়েছি। এখন বাংলাদেশের ৩ কোটিরও বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। আমরা মোবাইল ফোন মানুষের হাতে হাতে তুলে দিয়েছে। বাংলাদেশে এখন ১০ কোটি সিম ব্যবহার হচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশ প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। যা অনেক উন্নত দেশ পারেনি, আমরা তা করে দেখাতে সক্ষম হয়েছি।
প্রধামন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রæতি দিয়েছিলাম। তাই ডিজিটাল পদ্ধতিতেই বিভিন্ন উন্নয়নের উদ্বোধন করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে আমি চাঁদপুরে যেসব উন্নয়নের প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলাম, সেগুলো বাস্তবায়ন করেছি। এছাড়া আরো উন্নয়নকাজ হাতে নিয়েছি।
তিনি জানান, চাঁদপুরে প্রায় ১ হাজার ১শ’ ৭৯ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হয়েছে, ১ হাজার ৯শ’ ৯৭ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে, সড়ক ও জনপথে ৫০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণ, ৪৫ কিলোমিটার রাস্তা মেরামত করা হয়েছে, ৬টি বড় ব্রিজ ও ২০টি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। চাঁদপুর সরকারি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর মহিলা কলেজের নতুন একাডেমিক ভবন, ৩টি খাদ্য গুদাম, ৪৮৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন, ২১টি কলেজের নতুন ভবনসহ ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে।
তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, গত নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিই চাঁদপুরবাসী আওয়ামী লীগকে উপহার দিয়েছেন। উন্নয়নের ধারা ব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে ৫টি আসনই উপহার দেবেন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৩ আসনের এমপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, চাঁদপুর-১ আসনের এমপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. শামছুল হক ভূঁইয়া, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুজিত রায় নন্দী।
জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর-২ আসনের এমপি এয়ার ভাইস মার্শাল অব. রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক লে. কর্ণেল অব.আবু ওসমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক মুহম্মদ শফিকুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউসুফ গাজী, চাঁদপুর পৌরমেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাত করেন চাঁদপুর আহমাদিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. মুস্তাফিজুর রহমান।
যেসব প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী : ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর ১৬৩ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ১শ’৩৯ কোটি ৬৪ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ে সমাপ্ত ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা (হাইমচর) সংরক্ষণ’, ১শ’৭০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে চাঁদপুর সেচ প্রকল্প এলাকা (চাঁদপুর) সংরক্ষণ, ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিলা-লালমাই-লক্ষীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কের ৮১তম কিলোমিটারে ফরিদগঞ্জ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে কুমিলা-লালমাই-লক্ষীপুর-বেগমগঞ্জ সড়কের ৫৭তম কিলোমিটার এলাকায় নির্মিত ঝমঝমিয়া ব্রিজ, ৭ কোটি ৮০ লাখ ৬ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প, ১ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের নবনির্মিত বহুতল ভবন নির্মাণ, ৫১ লাখ ৩৭ হাজার টাকা ব্যয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ ইনষ্টিটিউট অব মেরিন টেকনলজি, ১০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর কোষ্ট গার্ড ষ্টেশন নির্মাণ, ৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর পৌরসভার নতুন ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।




