ads

বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৩ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

হরতালে দুধ সংগ্রহ বন্ধ : খামারীরা বিপাকে

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১৩, ২০১৩ ২:৪২ অপরাহ্ণ

sirajganj_district_map_bangladesh-40_1336হুমায়ুন কবির মৃধা, সিরাজগঞ্জ : হরতালের কারনে তরল দুধ ঢাকায় সরবরাহ করতে না পারায় বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন (মিল্কভিটা) বাঘাবাড়ী কারখানায় খামারীদের নিকট থেকে দুগ্ধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে। হরতালের কারণে দুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মিল্কভিটা ও খামারীদের প্রতিদিন সেয়া দুই কোটি টাকা করে ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের প্রায় ১০ লক্ষ ভোক্তা শিশু ও সুষম খাদ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
মিল্কভিটা ও খামার মালিকদের সূত্র থেকে জানা গেছে, মিল্কভিটার বাঘাবাড়ী দুগ্ধকারখানার আওতায় সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলা মিলে সহস্রাধিক প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি রয়েছে। এই সকল সমিতির সদস্য সংখ্যা অর্থাৎ খামার মালিক প্রায় লক্ষাধিক। সমিতির বাইরেও অনেক খামার মালিক রয়েছে। প্রতিদিন এ সকল সমিতি থেকে প্রায় দুই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে।  মিল্কভিটা এখান থেকে সংগ্রহ করা সিংহ ভাগ তরল দুধ ঢাকার প্রধান কারখানায় সরবরাহ করে। বাকি দুধ বাঘাবাড়ি কারখানায় পাউডার তৈরি করা হয়। হরতালের কারনে গত দুইদিন ধরে সংগ্রহকৃত দুধ ঢাকায় সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাঘাবাড়ি কারখানায় দুধ মজুদ হয়ে গেছে। বর্তমানে মজুদের জায়গা না থাকায় নতুন করে দুধ সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারনে গত কাল সোমবার মিল্কভিটার সোসাইটি ম্যানেজার সাইদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পত্রে দুইদিন দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রেশম বাড়ী প্রাথমিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুস সামাদ জানান, তার সমিতির সদস্যদের প্রতিদিন বিশ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়ায় তার দুধ বাজারে ১৫ টাক লিটার দরে বিক্রয় করতে হয়েছে। অথচ দুধের উৎপাদন খরচই প্রায় ৪০ টাকার কাছাকাছি। যে কারনে লাখ লাখ টাকা লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এ দিকে মিল্কভিটা দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়ায় সোমবার থেকে দুধের দাম বাজারে লিটার প্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকায় নেমে এসেছে। এই দুধ মিল্কভিটায় সরবরাহ করা হলে প্রতিলিটার ৪০ টাকা দাম পাওয়া যেতো। এলাকার সাধারন মানুষ এবং স্থানীয় মিষ্টি দোকানীরা একমাত্র ক্রেতা।
বাঘাবাড়ী দুগ্ধ কারখানার ব্যবস্থাপক মোঃ ইদ্রিচ আলী জানান, দুই লাখ লিটার ধারন ক্ষমতা থাকায় জায়গার অভাবে দুধ মজুদ করা সম্ভব নয়। শুধু বিকাল বেলায় যে দুধ সংগ্রহ করা হবে সেটি দিয়ে পাউডার তৈরি করা হবে।
মিল্কভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনির হাসান চৌধুরী বলেন, হরতালের কারনে সরবরাহ না করতে পারায় দুগ্ধ উৎপাদন কারী খামারীদের গড়ে প্রতিদিন সোয়াকোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে মিল্কভিটার ৭৫ লাখ টাকা এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ২৫ লাখ টাকাসহ সোয়া দুইকোটি টাকা ক্ষতি হয়। এ ছাড়াও রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় প্রায় ১০ লাখ ভোক্তা রয়েছে। তাদের মাঝে সুষম শিশুখাদ্য সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। এসকল সদস্যরা এই সুষম খাবার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মিল্কভিটা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিব খান জানান, দুধ পচনশীল দ্রব্য। এটি সংরক্ষন ভালো না হলে সকল দুধ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বাঘাবাড়িতে প্রতিদিন ১ লাখ ৬০ হাজার দুধ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৭০ হাজার লিটার দুধ পাউডার করা হচ্ছে। হরতালের কারনে তরল দুধ ঢাকায় সরবরাহ করতে না পেরে এবং মজুদের জায়গার অভাবে আমরা আপাতত দুই বেলা দুধ সংগ্রহ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। শিশু খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করে এই দুগ্ধ শিল্প হরতালের আওতামুক্ত করার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দদের কাছে দাবি জানান তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!