ads

বুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৩ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নির্বাচনী হাওয়া : ঝালকাঠিতে এবার মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১৩, ২০১৩ ১২:৩০ অপরাহ্ণ

jhalakathi  1-MP 26,10,13এইচ,এম নাসির উদ্দিন আকাশ, ঝালকাঠি : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি জেলায় দু’টি আসন। নির্বাচন হবে কি হবে না, নির্বাচন হলে কি ধরনের সরকারের অধীনে হবে- এ নিয়ে নানা সংশয়-উৎকণ্ঠা থাকলেও বসে নেই সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। ওইসব প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে তৃণমূল তথা কেন্দ্রে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানে দুটি আসনেই প্রধান দুই দলের মধ্যেই অর্ন্তদ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তবে দলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে ধারণা পাওয়া গেছে নির্বাচনের সময়সূচি ও প্রার্থী চূড়ান্ত হলে ওই বিবদমান অবস্থা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মাঝে অনেকেই ইতোমধ্যে দলীয় মনোয়নপত্র ক্রয় করেছেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) : নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও শাহজাহান ওমর বীরউত্তম নির্বাচন করতে না পারায় ফাকা মাঠে গোল করে আ’লীগ প্রার্থী বিএইচ হারুন জয় লাভ করেন। এ আসনে এবার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি ব্যারিষ্টার আলহাজ্ব শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার এ,কে,এম রেজাউল করিম, স্বেচ্ছাসেবকদলের কেন্দ্রীয় নেতা রফিক হাওলাদার ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পরাজিত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল। তবে বিএনপির ৪ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এবার মনোনয়ন লড়াই হবে মূলত: শাহজাহান ওমর ও রফিকুল ইসলাম জামাল এর মধ্যে। রেজাউল করিম গত নির্বাচনের আগে থেকেই  রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় তার প্রতিষ্ঠিত মোসলেম আলী খান ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ব্যাপক তৎপরতা চালান। সিডরে ব্যাপক ত্রান বিতরন করে তিনি এই এলাকায় আলোচিত হন। ১/১১ পরে যখন শাহজাহান ওমর বিদেশে যান, রেজাউল করিম তখন এই এলাকার সাধারন মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাড়িয়েছেন। ওইসব কারনে গত ৫ বছরে রাজাপুর ও কাঠালিয়ায় রেজাউল করিমের ইতিবাচক ইমেজ সৃষ্টি হয়েছে। শাহজাহান ওমর এই আসন থেকে একাধিকবার এমপি হলেও মামলা সংক্রান্ত কারনে গত নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা, তার বিরুদ্ধে সংস্কারবাদের অভিযোগ ওঠাসহ জেলা বিএনপির প্রভাবশালী একটি অংশ তার বিরোধিতা করায় কেন্দ্রে এবং নির্বাচনী এলাকায় শাহজাহান ওমরের অবস্থান আগের চেয়ে দূর্বল হয়ে গেছে বলে মনে করছেন এলাকার সাধারন মানুষ। এদিকে একটি সূত্র জানায়, সরকার শাহজাহান ওমরের সাজা হওয়া মামলায় আবারো আপিল করতে পারে। সেটা হলে তার নির্বাচনে মনোনয়ন চাওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে তার পরিবার থেকে যদি কেউ মনোনয়ন চায় তাহলে এই আসনে শাহজাহান ওমরের প্রধান দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বি ইঞ্জিনিয়ার এ,কে,এম রেজাউল করিম সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।
এ আসনে আ’লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান মন্ত্রীর সাবেক একান্ত সহকারী সচিব-১ ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. খায়রুল ইসলাম মান্নান, জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাডভোকেট খান সাইফুল্লাহ পনির, আ’লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, বর্তমান এমপি বিএইচ হারুন, সাবেক সচিব ইসমাইল হোসেন ও ষ্ট্যাম্পফোর্ড ইউনিভার্সিটির ভিসি ড. হান্নান ফিরোজ। এ আসনে জাতীয় পার্টি (জেপি)র চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে।

Shamol Bangla Ads

ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) : ঝালকাঠির এ আসনে বর্তমান সাংসদ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর অন্যতম সদস্য আলহাজ আমির হোসেন আমু ২০০৮ সালে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। তিনি এর আগে ২০০০ সালে এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির জুলফিকার আলী ভুট্টোুর মৃত্যুর পরে উপ-নির্বাচনে ১ বছরের জন্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে খাদ্যমন্ত্রী থাকায় তিনি এ এলাকায় যে উন্নয়ন করেছেন তা বিগত কোন সরকারের আমলেই হয়নি। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি বর্তমান সময় পর্যন্ত ব্যাপক উন্নয়ন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
আলহাজ আমির হোসেন আমু ২০০৮ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রতি মাসেই কমপক্ষে একবার এলাকায় আসেন এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডের ভিত্তিফলক অথবা উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ আসনে ১৯৭৫ সালের পর জাতীয় পর্টি ৩ বার ও বিএনপি ২ বার জয়ী হয়। এখানে আমির হোসেন আমু দলীয়ভাবে একমাত্র প্রার্থী এবং এ আসনে আওয়ামী লীগের আর কোন প্রার্থী দেখা যাচ্ছে না। তবে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টি বেরিয়ে গেলে জাতীয় পার্টির পক্ষে প্রার্থী হতে পারেন এম এ কুদ্দুস খান। তিনি সম্প্রতি এলাকায় এসে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তাকে এলাকায় গিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বলেছেন দাবি করে প্রচার-প্রচারণায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে জাতীয় পার্টির দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তাদের মনোবল চাঙ্গা করে তোলার চেষ্টা করছেন।
অপরদিকে এ আসন থেকে ২ বার বিএনপি প্রার্থী জয়ী হলেও বর্তমানে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের মধ্যে একাধিক গ্রুপিং রয়েছে। জেলা শহরে বিএনপির দু’টি পৃথক অফিসও রয়েছে। এ দুটি গ্রুপের একটি বিএনপির সভাপতি সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর গ্রুপের এবং অপরটি সাবেক জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. টি আহম্মেদ গ্রুপ হিসেবে চিহ্নিত। ৪ দলীয় জোট সরকারের আমলে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর ঝালকাঠি-১ আসন থেকে নির্বাচিত হন ও ঝালকাঠি-২ আসনে প্রয়াত সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর স্ত্রী ইসরাত সুলতানা এলিন ভুট্টো নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি দলীয়ভাবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
২০০৮ সালের বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ইসরাত সুলতানা এলিন ভুট্টো এই সাড়ে ৪ বছরে দু’একবার এলাকায় এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি দলীয় কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত নন। বর্তমান জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মিয়া আহম্মেদ কিবরিয়া দুবছর ধরে এ আসনে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার এবং দলীয় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করে আসছেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা নুরুল ইসলাম বাবুল এই এলাকার সন্তান হিসেবে তিনিও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনিও এলাকায় প্রায় দুবছর ধরে গণসংযোগ করে আসছেন। এছাড়াও নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে বিএনপির পক্ষ থেকে আরও একাধিক মনোনয়ন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে হাজির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উভয় দলের অভ্যন্তরিণ কোন্দল নিরসন হলে প্রধান দুই দলের মধ্যে তুমুল লড়াই হবে।

Need Ads
error: কপি হবে না!