ads

মঙ্গলবার , ১২ নভেম্বর ২০১৩ | ১১ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

প্রসঙ্গ; তথ্য অধিকার আইন : জানার আইন সাধারন মানুষকে জানানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ -হাকিম বাবুল।

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
নভেম্বর ১২, ২০১৩ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

Hakimদরিদ্র কৃষক আহম্মদ আলী মিয়ার মেয়ে মেধাবী ছাত্রী। এসএসসি পরীক্ষায় সকল বিষয়ে ভাল ফলাফল করলেও কেবলমাত্র গণিতে নম্বর কম পাওয়ায় তার জিপিএ-৫ আসেনি। অথচ যদি গণিতে গ্রেডপয়েন্ট এ-প্ল¬াস হয় তবে তার জিপিএ-৫ নিশ্চিত হয়। মেয়েটি অংক পরীক্ষাও ভাল দিয়েছে। কিন্তু ফলাফল দেখে তার পরিবার, সহপাঠি এমনকি শিক্ষকরাও এতে বিস্মিত হয়েছে তার মেয়ের জিপিএ-৫ না পাওয়ায়। শিক্ষকরা তাকে পরামর্শ দিলেন মেয়ের গণিত খাতা পুণঃনিরীক্ষণের আবেদন করার। খাতা পুণ:নিরীক্ষণের পর দেখা গেল অংকে তার গ্রেড পয়েন্ট বেড়েছে। এতে তার মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়াও নিশ্চিত হয়েছে। শেরপুর সদর উপজেলার মুকসুদপুর গ্রামের আহম্মদ আলী মিয়া মেয়ের অধিকার আদায় করতে পারলেও স্থানীয় অগ্রনী ব্যাংকে জমি-জমার কাগজপত্রসহ সবকিছু দিয়ে ৩ মাস যাবত ঘুরলেও এটা লাগবে, ওটা লাগবে করে ৪ মাসেও ব্যাংক ঋণ যোগাড় করতে পারেননি। কোথায় কার কাছে গেলে তিনি এর সুরাহা পাবেন সে বিষয়টিও তার অজানা। অথচ একই সাথে আবেদন করে এমন অনেকেই ঋণ পেয়েছেন, যাদের ঋণ পাওয়ার যোগ্যতাই নেই। অন্যরা ঋণ পেলেও কেন তিনি ঋণ পেলেন না, কোথায় অভিযোগ করবেন, সেটিও তিনি জানেন না। কেবল ব্যাংকের টেবিলে টেবিলে ঘুরে ঘুরে তিনি যারপরনাই ক্লান্ত। মেয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও কেবল এ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা না থাকার কারণে কৃষক আহম্মদ আলী মিয়া একেবারে ‘আহম্মক’ বনে গেছেন। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হিমশিম খাচ্ছেন।
জেলা পর্যায়ে জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তার সঙ্গে কিছুদিন আগে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি বলছিলেন, আমরা আইনের শাসন, সুশাসনের কথা বলি। কিন্তু ন্যয়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে কোন কাজ হবে না। আইনের শাসন আর ন্যয়বিচার এক কথা নয়। কোন কোন ক্ষেত্রে আইনের শাসনও ন্যয়বিচার নিশ্চিত করতে পারেনা। একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তি, যার কিনে খাবার সামর্থ্য নেই, সেই ব্যক্তির খাবার চুরি করা, আর যার সামর্থ্য আছে, যিনি কিনে খেতে পারেন- সেই ব্যক্তির খাবার চুরি করা এক জিনিস নয়। আইনের দৃষ্টিতে উভয়ই চুরি করে খাবার খাওয়ার অপরাধী। আইনের শাসন অনুযায়ী দু’জনই একই ধরনের সাজার উপযুক্ত। এতে ন্যয়বিচার কিন্তু নিশ্চিত হয়না। কেননা একজন পেটের দায় মেটাতে অনন্যোপায় হয়েছে খাবার চুরি করেছে, আর অন্যজন প্রয়োজন না হলেও চুরি করেছে।
এই ন্যয়বিচারের মাপকাঠি কি? সরকারী আইন আছে ঠিক। কিন্তু আইনের যদি প্রয়োগ না থাকে তাহলে তার কার্যকরীতা থাকে না। আর এই আইনের প্রয়োগ তখনই যথাযথ হয়, যখন যাদের  জন্য আইনটি করা তারা যদি এর ব্যবহার সম্পর্কে জানে। দেশে অনেক ভাল ভাল আইন আছে। কিন্তু সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকার কারনে সেগুলো অলংকার হয়েই থাকছে। সাধারণ মানুষের কোন কাজে আসছে না। কোন কোন ক্ষেত্রে বরং সুযোগ সন্ধানীদের কারণে আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইনের বেলাতেও এমন কিছু ঘটার আগেই এ ব্যাপারে নজর দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, ‘তথ্য অধিকার আইন ২০০৯’ সর্ম্পকে সাধারন মানুষের জানা না থাকার  কারনে এর সুফল ভোগ করতে পারছে না। দুর্নীতি, অনিয়ম দূর করে সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে এ আইনটি। অথচ এর প্রয়োগ সম্পর্কে সাধারন মানুষ, এমনকি অনেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিও এ আইন সর্ম্পকে ধারনা রাখেন না। তথ্য প্রদানকারী অনেকেই এ সর্ম্পকে অবহিত নন। মাঠ পর্যায়ের চিত্র এমনই ।
ব্যক্তিজীবনে জেলা পর্যায়ে মফস্বল সাংবাদিকতার সূত্রে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে আলোচনা করতে গেলে সকলেই খুব ভাল আইন বলে এটিকে উল্লে¬খ করলেও কিভাবে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করে তথ্য পাওয়া বা অধিকার সুরক্ষা করা যেতে পারে সে সর্ম্পকে  বেশীরভাগের সঠিক কোন ধারণাই নেই।
আমার এক সহকর্মী জেলায় যিনি ডাকসাইটে সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠিত পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। কিছুদিন আগে কৃষি ব্যাংকের একটি প্রকল্পে ঋণ বিতরণ নিয়ে অনিয়মের কারনে সেই প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরণ না হওয়ার বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে সত্যতা পেয়ে ছুটলেন কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসে। কত টাকা, কত জনের মাঝে, কি উদ্দেশ্যে এবং কাদের দেওয়া হয়েছে তার তথ্য জানার জন্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার কাছে গেলে ওই কর্মকর্তা তাকে এখন না তখন, ব্যস্ত আছি এমন করে পাশ কাটিয়ে চলছেন। সাংবাদিক বন্ধু তখন ভীষন  ক্ষুব্ধ হয়। প্রেসক্লাবের আরো কয়েকজন সাংবাদিককে ডেকে বললেন, দেশে তথ্য অধিকার আইন হয়েছে, অথচ কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক অফিসার তথ্য দিচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে খবর করতে হবে। তাকে যখন বলা হলো তথ্য অধিকার আইনে কি বলা আছে, তখন তিনি বললেন সব ডিপার্টমেন্ট এখন তথ্য দিতে বাধ্য, সরকার এই আইন করেছে। ফের যখন বলা হলো আইনে তথ্য পাবার সুনির্দিষ্ট বিধান আছে, নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে আবেদন করতে হবে, এজন্য সময়ও নির্ধারিত আছে। তথ্য না দিতে চাইলে কোথায় কি করতে হবে, তাও আইনে উল্লে¬খ আছে। এমনকি তথ্য না দেওয়া ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে। তখন তিনি বললেন, এত কিছুতো জানি না!
মাত্রইতো কিছুদিন আগে তথ্য অধিকার আইনে প্রথম কোন সরকারী কর্মকর্তার তথ্য না দেওয়ার অভিযোগে জরিমানা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত নারায়নগঞ্জ জেলার ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিডিয়াকে বলেছেন, আইনটি সর্ম্পকে তার জানা ছিলো না। প্রায় ৩ বছর হতে চললো, শেরপুর জেলায় তথ্য অধিকার আইনের উল্লে¬খ করে কোন সরকারী-বেসরকারী দপ্তরে তথ্য পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এমন ঘটনা হাতে গোনা দু’চারটি। দেশের অন্যান্য জেলার অবস্থাও অনেকটা এমনই। আার যারা এ তথ্যের জন্য আবেদন করেছেন তারা সমাজের অগ্রসর জনগোষ্ঠীর একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। সাধারন মানুষ এ আইনের সুবিধা ভোগ করতে আবেদন করেননি। এ আইনটি সর্ম্পকে তাদের ধারণাই নেই।
সাধারন মানুষ জানে থানায় জিডি/মামলা করতে গেলে ডিউটি অফিসার/পুলিশ কর্তাদের খুশী করতে হয়। কাস্টডিতে আসামী থাকলে কিংবা রিমান্ডে নিলে পুলিশের হাতে কিছু নগদ নারায়ন গুজে দিতে হয়। রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশকে খুশী না করলে গাড়ী চালানো কঠিন। ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে দালাল আর বিআরটিএ কর্মকর্তাদের উপরি দিতে হয়। আদালতে মামলার তারিখ থেকে শুরু করে নথি চালনা পর্যন্ত টেবিলে টেবিলে নির্ধারিত হারে টাকা গুনতে হয়। জমির দলিল/খারিজ/পর্চা পেতে বহুত ঝক্কি, কিন্তু বাড়তি টাকা দিলেই দারুন স্বস্তি। কমিশন ছাড়া ব্যাংকের ঋণ মেলে না। ঘুষ দিলে কাগজ পত্রও তেমন লাগে না। পিয়ন-কেরানীর চাকুরী নিতেও টাকা লাগে ৩/৪লাখ। হাসপাতালে ওষূধ মেলেনা। কৃতি শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকাও কেটে রাখে শিক্ষক। পরীক্ষার ফরম ফিলাপে লাগে বোর্ড নির্ধারিত ফি’র ২/৩ গুণ টাকা। মেম্বার-চেয়ারম্যান, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রশাসনের কর্তাব্যাক্তিদের সাথে খাতির থাকলে তবে মিলবে সরকারের সাহায্য-সহযোগিতা। উন্নয়ন কর্মকান্ড, টিআর-কাবিখায় অনিয়ম দুর্নীতি আজ ওপেন সিক্রেট। উকিল-মোক্তারের নিকট কেউ মামলার জন্য গেলে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে হচ্ছে হয়রানির মামলা। প্রতিটি ক্ষেত্রে এমনতরো নানা দুূনীতি-অনিয়মের বড়াজালে বন্দি সাধারণ মানুষের নিকট তথ্য অধিকারের বার্তা পৌছানো খুবই জরুরী। কিন্তু সে উদ্যোগ খুব একটা সুসংগঠিত নয়।
শেরপুর জেলায় গত ৩ বছরে জেলা পর্যায়ে মাত্র একটি অবহিতকরণ সভা হয়েছে। তথ্য কমিশনের সচিব এলেও এ সভায় সাধারনের উপস্থিতিতো ছিলোইনা, সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও ছিল হাতে গোনা। সভাটির প্রচারনাও ছিলোনা। জেলা প্রশাসকের তথ্য বাতায়নে দেখা যায়, মাত্র ১৮ টি বিভাগের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তার নাম উল্লেখ রয়েছে। পত্র-পত্রিকা, রেডিও-টেলিভিশনে তথ্য অধিকার আইন নিয়ে নানাধরনের আয়োজন আছে ঠিক, বিভিন্নভাবে সভা-সেমিনারও হচেছ। কিন্তু সাধারন মানুষকে সহজভাবে তাদের মতো করে আইনটি জানা-বোঝার উদ্যোগ-আায়োজন খুবই সীমিত। এ তথ্য জানার আইন সাধারন মানুষকে জানানোটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও মোবাইল ফোনে, টেলিভিশনের স্টিকারে তথ্য অধিকার আইনের ম্যাসেজ দেওয়া হচ্ছে। জেলা-উপজেলায় সরকারীভাবে তথ্য বাতায়ন চালূ হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র চালু হয়েছে। কিন্তু গ্রামের নিরেট সাধারন মানুষের উপযোগী করে আইনটি হৃদয়ঙ্গম করার আয়োজন নেই। শহুরে নাগরিক সমাজের বাইরেও গ্রামে বসবাসকারী সিংহভাগ সাধারন মানুষকে তথ্য অধিকার আইনটি জানানো ও সেটি ব্যবহার করার কৌশল সর্ম্পকে সচেতন করতে হবে। নতুবা দেশের অনেক আইনের মতো এটিও এক সময় কেবল ‘কাগুজে আইনে’  পরিনত হবে। এজন্য এখনই প্রয়োজন সহজ সরল ভাষায় তথ্য অধিকার আইনের ‘টেক্সট’ তৈরী করে সাধারন মানুষকে জানানোর ব্যবস্থা করা। গ্রামে গ্রামে উঠোন বৈঠক করা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সর্ম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। সাংবাদিক ও সুধীবৃন্দের জন্য বিশেষ ওরিয়েন্টশনের ব্যবস্থা করা। এ সংক্রান্ত বাস্তবভিত্তিক ভিডিও ফিল্ম তৈরী করে প্রচারের ব্যবস্থা করা। এজন্য বিশেষ সচেতনামূলক প্রকল্প  গ্রহন করা এখন সময়ের দাবি।

Shamol Bangla Ads

লেখক : হাকিম বাবুল, সাংবাদিক ও সংগঠক, e-mail: hakimbabul@gmail.com

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!