ওবায়দুল ইসলাম রবি,রাজশাহী: পুঠিয়া সদর উপজেলা হেলথ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী কনসালটেন্ট ডাক্তার মেরীনার স্বেচ্ছাচারিতায় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সরকারী হাসপাতলে এবার দেখা গেল সেবার নামে ডাক্তার মেরীনার কোপাকলে পড়ে রোগীদের দূর্ভোগ চরমে। পছন্দ মোতাবেক বে-সরকারী ক্লিনিক, হাসপাতালে রোগী রেফাডসহ ওষুধ কোম্পানী প্রতিনিধিদের সাথে মাসিক চুক্তির প্রথাটিও হার মানিয়েছে পুঠিয়া হাসপাতালের গাইনী ডাক্তার মেরীনার কাছে। সরকারী হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্য সরকারী কোয়াটার থাকলেও সেখানে না থেকে মেরীনা আক্তার রাজশাহী থেকে অফিস করেন। যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ে কখনোই সরকারী দায়িত্ব পালন করতে পারেননি একদিনও। বিষয়টি নিয়ে অন্য ডাক্তারদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে পুঠিয়া হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান মুখ থুবরে পড়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একমাত্র গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে ডাক্তার মেরীনা আক্তার পুঠিয়া হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে। নির্দিষ্ট সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত না হওয়ায় হাসপাতালে আগত রোগীরা প্রায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হন।
বুধবার-সোমবার পর্যন্ত এ হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র দেখতে পাওয়া গেছে। এ সময় রোগী সেলিনা, মরিয়ম ও বানেছা অভিযোগ করে বলেন, সকাল ১০টা থেকে পনে বারোটা পর্যন্ত হাসপাতালে বসে আছি, ডাক্তার আপা এখনও আসেননি। কখন আসবেন তাও জানিনা। এ বিষয়ে হাসপাতালের টিএইচএ‘র কাছে কোন তথ্য নেই। পরে তিনি দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের পর বেরসকারী ডায়াগনষ্টি সেন্টারে গিয়ে রোগী দেখেন। এসব অভিযোগর ব্যাপারে ডাক্তার মেরীনার সাথে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, আমি তো রোগী দেখছি, কোথায় রোগী দেখছেন এ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, একটু হাসপাতালে বাহিরে আছি জরুরী একটা কাজে এসেছি। হাসপাতালের ডিউটি চাট অনুসারে তার ডিউটি থাকলেও তিনি সেদিন আর হাসপাতালেই আসেননি। মহিলা ওয়ার্ডের রোগী সেলিানা, রুবিনা, ও আদোরী আরো জানান, হাসপাতালে রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য তার পছন্দের অর্থাৎ তার সাথে চুক্তিবদ্ধ বে-সরকারী ডাইগনষ্টিক সেন্টারের নির্দেশ প্রদান করা হয়। শুধু তাই নয় সেখানের টেস্ট ছাড়া তিনি কোন রোগী দেখান না আর অপারেশন করতে হলে সেটাও তার চুক্তিবদ্ধ ক্লিনিকে রেফাড করা হয়। সরকারী হাসপাতালের রোগীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক দালাল রাখা হয়েছে। এ নিয়ে সচেতন সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ডাক্তার মেরীনার সেচ্ছাচারিতার বিষয় গুলো ক্ষতিয়ে দেখার জন্য উদ্ধর্তন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
ডাক্তার মেরীনার অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে পুঠিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী আসেন চিকিৎসা সেবা নেবার জন্য। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে। হাসপাতাল থেকে কোন ওষুধ দেয়া হয়না। হাসপাতালের ওষুধ ফার্মেসীতে বিক্রিয় করা হয়। যা দেখার কেউ নেই। রাজশাহী সিভিল সার্জন বলেন, পুঠিয়া হাসপাতালে গাইনী কনসালটেন্ট মেরীনা আক্তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। ডাক্তার সংকটের জন্য এখনি তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছেন না। তবে দু-একের মধ্যে তাকে নোটিশ করা হবে বলেও জানান তিনি।




