নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের নকলায় পিডিবি কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে জাহেদুল ইসলাম (২৬) নামে এক বিদ্যুৎ শ্রমিক। ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সকালে নকলা উপজেলার পূর্ব লাভা এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহেদুল ইসলাম স্থানীয় কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার মৃত আবুল কাশেম উরফে মথুরার ছেলে। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন। এরা হচ্ছে নকলা খাদ্যগুদাম মহল্লার চানু মেম্বারের ছেলে রনি মিয়া ও পিডিবি লাইনে মই সরবরাহকারী আব্দুল মোতালেবের ছেলে লালন মিয়া। আহতদের গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নকলা উপজেলার পূর্ব লাভা এলাকার পিডিবি লাইনটি বন্ধ করে সেখানে ২০০ কেভি ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করতে যায় স্থানীয় পিডিবির একটি দল। ওইসময় পিডিবির দক্ষ কোন শ্রমিকের পরিবর্তে লাইনের উঠানো হয় খণ্ডকালীন শ্রমিক জাহেদুল, রনি ও লালনকে। কাজ করার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে লাইনটি চালু হয়ে গেলে সাথে সাথেই জাহেদুল তারে জড়িয়ে পড়ে এবং রনি ও লালন শর্ট খেয়ে ছিটকে নিচে পড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় জাহেদুল এবং লাইনেই তার দেহ ঝুলে থাকে। আর রনি ও লালনকে এলাকাবাসী গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে ঝুলে থাকা জাহেদুলের লাশ নিচে নামিয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
অভিযোগ উঠেছে, ওই ট্রান্সফর্মার প্রতিস্থাপনকালে পিডিবির কোন প্রকৌশলী বা কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এছাড়া একাধিক লাইনম্যান উপস্থিত থাকলেও খ-কালীন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের সেই কাজে লাগানো হয়। পিডিবি কর্মকর্তার বক্তব্যেও উঠে এসেছে সে তথ্য। পিডিবির নকলা উপজেলা আবাসিক প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, তারা লাইনম্যান হিসেবে পার্টটাইম কাজ করে। তবে ট্রান্সফর্মার প্রতিস্থাপনকালে কোন কর্মকর্তা বা সিনিয়র কোন লাইনম্যান ছিল কিনা সে বিষয়ে কোন সদুত্তর না দিয়ে তিনি দাবি করেন, পিডিবি লাইনে বিদ্যুৎ বন্ধ ছিলো। কিন্তু নকলা পৌরসভাধীন তাতরাকান্দা এলাকায় পিডিবির লাইনটির নিচ দিয়ে যাওয়া পল্লী বিদ্যুতের লাইনের তারে পড়ে যাওয়ায় পিডিবির লাইন বিদ্যুতায়িত হয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে ওই বক্তব্যের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহল পিডিবি বিদ্যুৎ সরবরাহে অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। তাদের অভিযোগ, লাইনে মই সরবরাহকারী আব্দুল মোতালেবের ছেলে লালন মিয়া দীর্র্ঘদিন ধরে অদৃশ্য ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বিদ্যুৎ অফিসে দাপিয়ে বেড়াতো এবং সে বিদ্যুৎ গ্রাহকের যেকোন বৈদ্যুতিক কাজে হস্তক্ষেপ করত।
এ বিষয়ে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দ্রজীৎ দেবনাথ বলেন, নিহত ও আহতরা কেউ পিডিবির কর্মচারী নন। ওইসময় পিডিবি লাইনম্যান আব্দুল মোতালেব খণ্ডকালীন শ্রমিকদের নিয়ে ট্রান্সফর্মারটি প্রতিস্থাপন করতে গিয়েছিল।




