রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, গাজীপুর : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এবার এক গৃহবধু হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার দিবাগত রাতে কাপাসিয়ার রায়েদ ইউনিয়নের কালডাইয়া গ্রামে বসতঘরের পাশে পুরনো গর্ত থেকে পুলিশ ওই নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তার স্বামী কাজল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছেন। নিহত আমেনা বেগম (২৫) ওই গ্রামের কৃষি শ্রমিক কাজল মিয়ার স্ত্রী। নিহত নারী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিল বলে জানা গেছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় উপজেলার রায়েদ ইউনিয়নের কালডাইয়া গ্রামের কাজল মিয়ার প্রবাসী বড় বোনের কেনা জমিতে বাড়ি করে স্ত্রী ও তিন শিশু কন্যা নিয়ে বসবাস করছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ঘরে স্ত্রী ও শিশু কন্যাদের বাড়িতে রেখে পাশের রায়েদ দরগাহ বাজারে আটা কিনতে যান তিনি। এক ঘন্টা পর কাজল মিয়া ফিরে এসে দেখতে পান মাকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে সামিয়া (৮), সাঈমা (৪) ও সাদিয়া (২) কাঁদছিল। পরে বাড়ির অন্য লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পূর্ব পাশের বসতঘরের পেছনে পুরনো গর্তে তাঁর স্ত্রীর গলাকাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ আমেনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। তার লাশের পাশ থেকে রক্তমাখা একটি ব্লেড ও স্বামীর পরনের রক্তমাখা লুঙ্গী উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ওই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাত সাড়ে ১১ টায় তার স্বামী কাজল মিয়াকে আটক করেছেন।
নিহতের মেয়ে সামিয়া জানায়, তাঁদের মা বাড়ির কাজ করছিলেন। হঠাৎ কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা মায়ের খোঁজ করেও কোন হদিস পায়নি।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ বলেন, হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্বামী কাজলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কেন হত্যা করেছেন সেটা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরের কালিয়কৈরে আনসারের গুলিতে কারখানার নিরাপত্তা কর্মী জখম
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ২৮ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় আনসার সদস্যের ছুড়া গুলিতে কারখানার এক নিরাপত্তা কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মদ আলী (৩৫) পেটে ও হাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তিনি সফিপুর এলাকার করতোয়া স্পিনিং মিল কারখানার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আনোয়ার হোসেন জানান, সফিপুর করতোয়া স্পিনিং মিল কারখানার নিরাপত্তা কর্মী মোহাম্মদ আলী রোববার কারখানার দক্ষিন পাশে কর্মরত ছিলেন। ওই স্থানের পাশেই আনসার ভিডিপি’র প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একটি নিরাপত্তা চৌকি ছিল। সেখানে কর্তব্যরত ছিলেন আনসার বাহিনীর এপিসি আব্দুল ওহাব ও আনসার সদস্য মোকছেদুল। বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে হঠাৎ আনসার বাহিনীর সদস্যদের এসএমজি থেকে কারখানার নিরাপত্তাকর্মীকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়। এতে নিরাপত্তাকর্মী মোহাম্মদ আলীর পেটের ডান পাশে একটি এবং ডানা হাতের কুনইয়ের মধ্যে একটি গুলি বিদ্ধ হন। কিছু সময় পর ওই কারখানার অপর এক কর্মী দেখতে পান মোহাম্মদ আলী মাটিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সফিপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে তাৎক্ষনিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে কেন পাশের আনসার ক্যাম্পের সদস্যরা তার কারখানার নিরাপত্তা কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে তা বুঝতে পারছি না।
তবে ঘটনার পর আনসারের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ফখরুল আলম অসাবধানতা বশতঃ আনসার সদস্যের অস্ত্র থেকে গুলি বের হয়ে ওই দূর্ঘটনা ঘটেছে মর্মে কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (জিডি) করেছেন।
কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জিডির সত্যতা স্বীকার করে সাংবাদিকদের জানান, দু’টি ঘটনাস্থলই পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে গুলি ছোঁড়ার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।




