নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার দাদপুর ও সেনপুর গ্রামের মাঝে জলাবদ্ধ ধানোর বিলে স্থানীয় কৃষকদের ৪৫বিঘা জমির চুক্তির টাকা ঘের মালিক পরিশোধ না করায় নিজেরা দীর্ঘ ৪ বছর পর দখলে নিয়ে বোরো আবাদ করেছেন। ৪/৫টি শ্যালো মেশিন দিয়ে মাসব্যপী পানি সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপনের পরে চারিদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। সবল ধানক্ষেতের উপর দিয়ে দখিনা বাতাসের দোলায় কৃষকরা আনন্দে আত্মহারা। তাই বম্পার ফলনেরও আশায় বুক বেঁধেছেন দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা। তারপরেও থেমে নেই কথিত নামধারী ঘের মালিক। ইতিমধ্যে ৪৫বিঘার ঐ মৎস্যঘের দখলে নিতে শতাধিক জমির মালিক ও গ্রামবাসীর নামে এ পর্যন্ত ৫টি মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় জমিতে এসে জোরপূর্বক ধানক্ষেত উচ্ছেদ করে মৎস্যঘের বানানোর হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, থানার দাদপুর গ্রামের হেকমত আলী, আবুবক্কর শেখ, আবু তালেব, মফিদুল শেখ, রেজাউল করিম,তবিবুর রহমান সেনপুর গ্রামের আব্দুল হালিম, মফিদুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, এনামুল মাস্টার, হাজী আতিয়ার শেখ, একে ফজলুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, হাশেম আলী ও নওয়াব আলীসহ প্রায় ৬৫/৭০ জনের নিকট থেকে গৌরিপুর গ্রামের মৃত শামসুল হকের পুত্র ইলিয়াস হোসেন ওরফে বিদ্যুৎ ২০০৯ সালের ২৫ মে বাৎসরিক বিঘাপ্রতি ১০ হাজার টাকা অথবা ১২ মন ধান দেয়ার শর্তে চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদের মধ্যে কারো ১ বছর আবার কারো ২ বছরের টাকা ঘের মালিক পরিশোধ করেছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ জমির মালিকরা ঘের মালিকের কাছে বকেয়া টাকা চাইলে নানাভাবে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে জমির মালিকগণ কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যান ও পাটকেলঘাটা থানায় পাওনা টাকার জন্যে দরখাস্ত করে প্রতিকার না পেয়ে তালা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে দরখাস্ত দাখিল করেন। সেখানে শালিসী বৈঠকে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধের পক্ষে মতামত দিলেও ঘের মালিক টাকা না দিয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিতে থাকে। দিশেহারা হয়ে শতাধিক জমির মালিকরা ২০১৩ সালে নিজেদের জমি দখলে নিয়ে মাসব্যপী ৩ দফায় পানি সেচে বোরো চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ঐ জমিতে রোপনকৃত ধানের চারা অল্প দিনেই সবল হওয়ায় জমির মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এদিকে দেনাদার ঘের মালিক আবাদকৃত জমি নিজের দখলে নিতে জমির মালিক,জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক, শিক্ষকসহ নিরীহ গ্রামবাসীদের নামে থানা, আদালতসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ৫টি মামলা দায়ের করেছে। মামলা দায়ের ছাড়াও ঘের মালিক বিদ্যুৎ ও তার বাহিনী বিভিন্ন সময়ে দা, লাঠি প্রদর্শন করে জমি মালিকদের নানাভাবে হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে জমির মালিকগণ পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দেয়ার জন্যে প্রায় ৫লাখ টাকা ব্যয় করে ৬/৭ ফুট পানি সেচে জলাবদ্ধতা দুর করে ধান লাগিয়েছেন। খরচ হলেও ধান লাগাতে পেরে খুশী সকল জমির মালিক ও প্রান্তিক চাষীরা। অর্থ ব্যয় ও শারিরিক কষ্ট স্বীকার করে চলতি মৌসুমে বোরো চাষ করার পর ১ম মাসেই ধানের চেহারা বেশ তরতাজা হয়ে উঠেছে। এভাবে চলতে থাকলে অবশ্যই ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে জানান স্থানীয় জমির মালিকগণ। দাদপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক আবু তালেব জানান- এখানে সে ১বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছে। আশাকরি ফলন ভাল হবে। এখন আর ঘের মলিকের অত্যাচার সহ্য করতে হবেনা। সবাই স্বাধীন ভাবে জমি চাষ করতে পারছি। ইউপি সদস্য ও চাষী মফিদুল ইসলাম বলেন- ঘের মালিক বিদ্যুৎ কোন টাকা পয়সা তো জমি মালিকদের দেয়না বরং জমি মালিকদের নিকট থেকে জোর করে জমি নেয়ার জন্য এপর্যন্ত ৫টি মামলা করেছে। একই ভাবে ঘটনার বর্ণনা দিলেন উপস্থিত জমি মালিক ও জমিতে কর্মরত দিন মজুরের দল। সর্বোপরি সরকার যখন খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ ভাবে ভূমিকা রাখার জন্য কৃষিক্ষেত্রে হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঠিক সেই সময়ে ইলিয়াস হোসেন বিদ্যুৎ নামে কথিত ঘের মালিক সরকারের সদিচ্ছাকে ভুলুন্ঠিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ ব্যপারে ভূক্তভোগীমহল সংশি¬ষ্ট উর্দ্ধতন প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালায় প্রদীপনের উদ্যোগে ৫দিন ব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা, সন্ধান ও উদ্ধার এবং দুর্যোগ ও সংকেত বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

গতকাল রবিবার সকালে উত্তরণ তালা প্রশিক্ষণ হলরুমে,সেভ দ্য চিলড্রেন ও ইউরোপিয়ান কমিশনের সহযোগিতায় বেসরকারি সংস্থা প্রদীপন’র আয়োজনে কয়রা সদর ইউনিয়নের ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের নিয়ে ৫ দিন ব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা, সন্ধান ও উদ্ধার এবং দুর্যোগ ও সংকেত (ঘূর্ণিঝড়) বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। উত্তরণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ রেড μিসেন্ট সোসাইটির প্রশিক্ষক মোঃ জিয়াউল আহসান ও জনি সাহা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন সেভ দ্য চিলড্রেন’র প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ ফরহাদ হোসেন এবং প্রদীপন’র মাঠ ব্যবস্থাপক কামাল আহম্মেদ চৌধুরী উক্ত প্রশিক্ষণে সুশিলসমাজের ২৬ জন জনপ্রতিনিধি শিক্ষক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় ফল ব্যবসায়ী নিহত
সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় রেজউল ইসলাম (৩২) নামে এক ফল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। পুলিশ ড্রাইভারসহ ঘাতক ট্রাকটি আটক করেছে। সোমবার সকাল ৮টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের তুফান কোম্পানির মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত রেজউল ইসলাম সাতক্ষীরা পৌরসভার সুলতানপুর সাহাপাড়ার সাদেক আলীর ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোমরা থেকে আসা ঢাকাগামী একটি ট্রাক (ঝিনাইদহ-ট-১১০৫৩৯) দ্রæতগতিতে তুফান কোম্পানির মোড় ক্রস করার সময় পথচারী ফল ব্যবসায়ী রেজাউলকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক জানান, ড্রাইভার রবিউল ইসলামকে ট্রাকসহ আটক করা হয়েছে। নিহতের মৃত দেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আন্তজেলা মটর সাইকেল ছিনতাইকারী চক্রের ছোড়া বোমার ¯িপ্রন্টারে তিন পুলিশ সদস্য আহত ঃ আটক এক ছিনতাইকারী

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আন্তজেলা মটর সাইকেল ছিনতাইকারী চক্রের ছোড়া বোমার ¯িপ্রন্টারে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় ঘটনা স্থল থেকে আটক করা হয়েছে এক ছিনতাইকারীকে। আটক ছিনতাইকারীর নাম মোঃ আলম(২৮)। সে উপজেলার সাইহাটি গ্রামের দলু সরদারের ছেলে। আহত তিন পুলিশ সদস্যরা হল, কনষ্টেবল আব্দুল জব্বার, আকতার ও রহিম। কালিগঞ্জ থানার ওসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ আজ সোমবার ভোর রাতে কালিগঞ্জ উপজেলার সাইহাটি এলাকায় আন্তজেলা মটর সাইকেল চক্রের সদস্যদেরকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালালে ৪/৫ জনের একটি ছিনতাইকারী দল পুলিশকে লক্ষ্য করে উপুর্যপরি বোমা নিক্ষেপ করে । এ সময় বোমার ¯িপ্রন্টারে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয় । আহত পুলিশ সদস্যদের কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে আটক করা হয় আলম নামের এক ছিনতাইকারীকে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতিসহ ১২ টি মামলা রয়েছে।
তালায় দুর্বৃত্তদের হাতে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ
সাতক্ষীরার তালায় দুর্বৃত্তদের হাতে কাসেম মোড়ল (৩৫) নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তালা উপজেলার তেঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের ওপর এই ঘটনা ঘটে। সে বালিয়া গ্রামের শেরআলী মোড়লের ছেলে। গুলিবিদ্ধ কাসেমকে প্রথমে তালা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা ২৫০ শয্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় গ্রামবাসি জানায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীমন্ত কাঠি বাজার থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন কাসেম। পথিমধ্যে তেঘরিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে গেলে উৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ডান পায়ের গোড়ালীতে গুলি করে পালিয়ে যায়।এ সময় কাসেমের চিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন তাকে উদ্ধার করে তালা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে কাসেমের পরিবারের দাবী, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী আলতাফ ও এখলাছ এর সঙ্গে তার এক বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রতিপক্ষরাই এই ঘটনাটি ঘটাতে পারে। তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাতেই কাসেমকে তার পরিবারের লোকজন খুলনা ২৫০ শয্য হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে রাতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। এখনও অভিযান অব্যাহত আছে।




