ads

শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো : শফিকুর রহমান

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ণ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ১১ জুলাই শনিবার বিকেলে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য এই সমাবেশের আয়োজন করে।

Shamol Bangla Ads

জামায়াতের আমির বলেন, আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সাথে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লাড়াই আমরা করে যাবো, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করবো ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরবো না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যস্ত ব্যক্ত করে গেলাম।

শফিকুর রহমান বলেন, যে বৈষম্য দূর করে বাংলাদেশের পচা রাজনীতিকে বিদায় জানিয়ে নতুন বাংলাদেশ করার জন্য আমাদের সন্তানেরা লড়াই করেছিল। সেই নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্যই সংস্কারের উদ্দেশ্যে গণভোট হয়েছে। বাংলাদেশের একটা জায়গায় শুধু দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ভোট দেবেন দুটো। একটি আমার দলকে আরেকটি গণভোটে হ্যাঁ। তিনি প্রথমটা রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়টা তিনি রক্ষা করেন নাই।

Shamol Bangla Ads

তিনি বলেন, তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাও- এই আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও কোনো অ্যালোকেশন নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে আপনাদের সহযোগিতা দোয়া ভালোবাসা সমর্থন ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।

সীমান্তে উত্তেজনার বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সাথে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই। সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে কাকে খুশি করার জন্য, কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক। বাংলাদেশের জনগণের নাড়ির পালস বুঝার চেষ্টা করুন। জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা- তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

রংপুরকে কৃষি রাজধানী গড়ার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বলেছিলাম আমরা নির্বাচিত হলে আল্লাহ তায়ালা সুযোগ দিলে আমরা রংপুর বিভাগকে বানাবো কৃষির রাজধানী। সেই রাজধানীর কথা বর্তমান সরকারও সংসদে বলছে। কিন্তু রাজধানীকে ভিক্ষা দিলে রাজধানী বনবে না, রাজধানীকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এখানে এসে শুনতে পেলাম দুঃখের বিষয়- কৃষক কষ্ট করে ঘাম ঝড়িয়ে ফসল ফলায়। এ অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়। এখন হিমাগারে রাখতে গেলে বস্তা প্রতি ৬০০ টাকা তাদেরকে দিতে হচ্ছে। এটা অন্যায়। ন্যায্য দামে সেখানে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

দ্রব্যমূল্য ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যে জনগণ অস্থির। সরকারের হৃদয়ে এগুলা ঢুকে না। জনগণ তো চাঁদাবাজি করে না, তাদের তো অবৈধ অর্থের উৎস নেই, তারা ঘুষ-দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয়- তাদের এই দুঃখ ওই লোকেরা কেমনে বুঝবে যারা চাঁদাবাজিতে লিপ্ত, যারা ঘুষ দুর্নীতিতে ব্যস্ত তারা এটা বুঝবে না।

তিনি বলেন, সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে আমাদেরকে হারিয়ে দিয়েছে কয়বার। ঘুঘু তুমি ধান খাও বারবার, ধরা পড়বা একবার। আগামীতে এই সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তির ওপরে ১১ দল একটি সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ। যেই দেশে চাঁদাবাজ তো দূরের কথা তাদের ছায়াও সহ্য করা হবে না। দুর্নীতি করার প্রয়োজন কারও হবে না। সম্মানজনকভাবে সবাই বাঁচতে পারবে। এরপরে লোভের বশবর্তী হয়ে কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না। প্রধানমন্ত্রী হলেও না। তাকেও বিচারের মুখামুখি করা হবে।

দেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশ আমাদের। আল্লাহ রক্ষাকর্তা। আমরা যতদিন বেঁচে থাকবো দেশের এক ইঞ্চি জমিতো দূরের কথা একটা বালুর ওপরেও কাউকে কর্তৃত্ব করতে দেবো না। যারা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাদেরকে বলি আপনারা এইভাবে বাংলাদেশকে বিবেচনা করবেন না। ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন- আমাদের সৈন্য দুই লাখ আড়াই লাখ নয়, এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকটা নারী পুরুষই আমাদের সৈন্য। জুলাইতে এটার প্রমাণ রেখেছে সবাই।

রংপুরের বিভাগীয় এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আল্লামা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারিজেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন প্রমুখ বক্তব্য দেন।

এছাড়াও সমাবেশের শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!