শেরপুর সদর উপজেলার তাতালপুর সোনাবরকান্দা গ্রামের প্রায় অর্ধশত কৃষক নকল ধান বীজ ব্যবহার করে চারা রোপণ করে ফলন না পেয়ে ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন শেষে তারা নকল বীজ বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছেন।

ওইসময় জেলা প্রশাসকের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মনিরুল হাসান এর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। ওইসময় তিনি কৃষকদের সমস্যার কথা শুনে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে দুই মাস আগে বিভিন্ন কোম্পানির বীজ ধান ক্রয় করে রোপণ করেন তারা। কিন্তু বর্তমানে আশপাশের জমিতে ধান গাছের ফলন আসলেও তাদের ধান গাছে ফলন তো দূরের কথা গাছই বড় হয়নি। এছাড়া ধান গাছের পাতাগুলো বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। তারা আরও জানান, সোনাবরকান্দা গ্রাম ছাড়াও আশপাশের অনেক গ্রামে প্রায় ২০০ একর জমিতে এ ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি ওই ডিলারের কাছ থেকে নাফকো হাইব্রিড ধান-২ জাতের ১২ প্যাকেট ও মিতালি-৪ জাতের ৫ প্যাকেট ক্রয় করে ৫ একর জমিতে ধারদেনা করে রোপন করেছেন। রোপনের পর পরিমাণমতো পানি ও সার দেওয়ার পরও চারার কোন পরিবর্তন হয়নি। পরবর্তীতে ডিলারের স্মরণাপন্ন হয়ে তার পরামর্শে চারাগাছের উন্নতির জন্য দুধাপে প্রায় ১২ হাজার টাকার কীটনাশক ক্রয় করে প্রয়োগ করি। এরপরও চারার কোন উন্নতি হয়নি। এতে তার প্রায় ৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গত ২৭ মার্চ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এক লিখিত অভিযোগ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে কৃষকরা ডিলার মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বীজ এর কারণে নয়, প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্য কোন কারণে ধানের ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া তাদের সমস্যার কথা শুনে আমি পরামর্শ দিয়েছি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইস্পাহানি কোম্পানির মার্কেটিং ম্যানেজার উত্তমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে দেখে পরে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
দ্রুত সংশ্লিষ্ট বীজ কোম্পানি অথবা ডিলারদের কাছ থেকে এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




