গ্রেফতার ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর
শেরপুরে নিজ বাসায় সেনাসদস্যের স্ত্রী সুরভী আক্তার হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলার ৭ মাস পরও উদঘাটন হয়নি রহস্য। এ নিয়ে ওই সেনাসদস্যের স্ত্রীর স্বজনসহ স্থানীয় সচেতন মহলে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। অন্যদিকে ১ জুন মঙ্গলবার দুপুরে আজিত উল্লাহ ওরফে আসতুল্লাহ (৩৫) নামে এক ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির একদিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তা জামালপুর পিবিআইয়ের ইন্সপেক্টর সৈয়দ মঈনুল হোসেনের ৭ দিনের পুলিশ রিমাণ্ডের এবং আসামিপক্ষে জামিন আবেদনের বিষয়ে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান মাহমুদ তার জামিন নাকচ করে ওই রিমাণ্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক খন্দকার শহীদুল হক। এর আগে ৩০ মে রাতে শহরের কসবা শিবোত্তর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় আসতুল্লাহকে। সে স্থানীয় আক্কাস আলীর ছেলে। এ নিয়ে এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২ জনকে গ্রেফতার করা হলেও অপর সন্ধিগ্ধ আসামি ডিসিস্ট সুরভীর আপন ভাসুর নাজমুল হুদা (৩৮) সম্প্রতি উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে রয়েছে।

এ বিষয়ে ওই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (জামালপুর-শেরপুর) অঞ্চলের পিবিআইয়ের পরিদর্শক সৈয়দ মঈনুল হোসেন জানান, রিমাণ্ড মঞ্জুর হওয়া আসামি আসতুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বুধবার পিবিআই হেফাজতে নেওয়া হবে। তিনি প্রাথমিক তদন্তের প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে জানান, গ্রেফতারকৃত আজিত উল্লাহ ওরফে আসতুল্লাহ পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি এবং সে শহরের নতুন বাস টার্মিনাল এলাকায় একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ পরিচালনা করে। অন্যদিকে সেনাসদস্য স্বামী নাজিম উদ্দিন সুদানে জাতিসংঘ মিশনে থাকায় সুরভী নিজেই ওই ওয়ার্কশপ থেকে বাসার দরজা-জানালা তৈরির সুবাদে বাসায় যাতায়াত ছিল এবং তাকে মাঝে-মধ্যে উত্যক্ত করতো। যে কারণে প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, ওইসব কারণেই তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হতে পারে। তার মতে, তাকে রিমাণ্ডে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্তকরণসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর শহরের কসবা মোল্লাপাড়া এলাকার নিজ বাসার উঠান থেকে সেনাসদস্যের স্ত্রী ও ২ সন্তানের জননী সুরভী আক্তারের (৩০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইসময় বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেলেও সুরভীর হাতে থাকা মোবাইল ও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং বাড়ির কোন জিনিস খোয়া যায়নি। পরদিন নিহতের বাবা শফিউল্লাহর বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ তদন্তের ভার গ্রহণ করে। এরপর র্যাব-১৪ (জামালপুর-শেরপুর) অঞ্চলের কর্মকর্তারা ছায়া তদন্তকালে সুরভীর বাসার আশেপাশের বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে মামলাটি তদন্তের ভার অর্পিত হয় পিবিআইয়ের উপর।




