স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে এবার টানা ষষ্ঠ দফায় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন মহাজোট সমর্থিত আওয়ামী লীগ প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য, ৪ বারের সংসদ সদস্য, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। এলাকায় শতশত কোটি টাকার নজরকাড়া উন্নয়ন এবং অভিজ্ঞতা, সফলতা ও সততার সমীকরণে তিনি দেশব্যাপী আলোচিত একজন হেভিওয়েট প্রার্থী।
ভোটের মাঠের হিসেব অনুযায়ী, মতিয়া চৌধুরী প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে শীতের কুয়াশা ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করেও প্রতিদিন ভোর থেকে রাত অবধি বিভিন্ন এলাকায় করেন গণসংযোগ ও নির্বাচনী পথসভা। তিনি যেদিকেই গিয়েছেন, সেদিকেই তার পিছনে ঢল নেমেছে মানুষের। নিজের অবস্থানের কারণেই তিনি এখানে যেন অদ্বিতীয়। এ আসনে আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি ও জাসদের নেতা-কর্মীরাও প্রথম থেকেই তার সাথে কাজ করছেন। মনোনয়নবঞ্চিত নালিতাবাড়ীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বাদশাও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে একসাথে না হলেও নিজের অবস্থানে থেকে নৌকার পক্ষেই মাঝে-মধ্যে গণসংযোগ করেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মকছেদুর রহমান লেবুকে এখনও মাঠে দেখা না গেলেও দলের সাবেক সভাপতি, পৌর মেয়র আব্দুল হালিম উকিল ও নকলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাহ মোঃ বুরহান উদ্দিনসহ অন্যান্যরা কাজ করছেন অগ্নিকন্যার সাথেই। ফলে এ আসনে প্রথম ভাগেই হাওয়া লাগে নৌকার পালে।
অন্যদিকে এ আসনে তার বিপরীতে লড়ছেন নানা নাটকীয়তায় শেষ মুহূর্তের মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়া ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপি প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে এবং দলের নতুন মুখ ফাহিম চৌধুরী প্রার্থী হিসেবে নবীন হলেও প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে পরিবারের সদস্য ও দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে যেভাবে মাঠ গুছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, তার এক সপ্তাহ না যেতেই থমকে দাঁড়ায় তার নির্বাচনী কর্মকা-। নকলায় অপ্রীতিকর ঘটনায় একাধিক মামলা ও কয়েকজনকে গ্রেফতারের পর থেকে আতঙ্ক পেয়ে বসে দলের নেতা-কর্মীদের। এছাড়া এ আসনে দলের মনোনয়নবঞ্চিত বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সাবেক সচিব ব্যারিস্টার এম হায়দার আলী এবং শেষ পর্যায়ে মনোনয়ন হারানো নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের পদত্যাগী চেয়ারম্যান একেএম মোখলেছুর রহমান রিপনকে এখনও মাঠে পায়নি দলের প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা। যে কারণে কেবল নকলায় নয়, নালিতাবাড়ীতেও এখন তৎপরতা নেই ফাহিম চৌধুরীর। তিনি চেষ্টা করেন তার ফেসবুক পেইজে ভিডিও বার্তায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ধরে রাখতে। এছাড়া এ আসনে হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুল ইসলামের তেমন কোন তৎপরতাই চোখে পড়ে না। ।
এ আসনে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সাথে বিএনপির নতুন মুখ প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরীর লড়াইকেও অনেকটা ‘অসম লড়াই’ বলেই ভাবছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তাসহ নানা সমীকরণেই মতিয়া চৌধুরী এগিয়ে আছেন এবং শেষ লড়াইয়ে এবারও তিনিই জিতবেন।




