অভাবের কারণে লামিনে ইয়ামাল একসময় এমন এক ফ্ল্যাটে থাকতেন, যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একসঙ্গে ছিল। সেই ইয়ামাল ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তারকা হয়েছেন আরো আগেই। সম্প্রতি স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা এই উইঙ্গার এবার কিনলেন প্রাসাদসম এক বাড়ি, যেখানে একসময় থাকতেন বার্সা কিংবদন্তি জেরার্দ পিকে ও তার সাবেক প্রেমিকা পপ গায়িকা শাকিরা।

স্পেনের ক্রীড়া দৈনিক স্পোর্তের খবরে বলা হয়েছে, কাতালোনিয়ার এসপ্লুগেস দে লোব্রেগাত এলাকায় অবস্থিত ইয়ামালের প্রাসাদসম এই বাড়ির দাম ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।
পিকে-শাকিরার সম্পর্কের শুরু ২০১০ সালে। বাড়িটি নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে।
তখন থেকে ২০২২ সালে বিচ্ছেদের আগপর্যন্ত তারা সেই বাড়িতেই থাকতেন। দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পরপরই বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করে আসছিলেন।

স্পেনের আরেক সংবাদমাধ্যম এল পাইসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিকে-শাকিরার পুরোনো আর ইয়ামালের বর্তমান ঠিকানা হতে চলা ভূসম্পত্তিটি ৩৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। বিশাল এই জায়গায় রয়েছে তিনটি ভবন—একটি মূল বাড়ি এবং দুটি আলাদা বাসভবন।
এ ছাড়া ইনডোর ও আউটডোর সুইমিংপুল, টেনিস কোর্ট, জিমনেসিয়াম, একাধিক চত্বর, সিনেমা হল এমনকি একটি রেকর্ডিং স্টুডিও আছে।
প্রথমে তিনটি ভবন মিলিয়ে এই সম্পত্তির দাম ধরা হয়েছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ২০০ কোটি টাকা), যা ২০২২ সালে বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। পরে একটি ছোট ভবন বিক্রি হয়ে যাওয়ায় পুরো দাম থেকে ৩৫ লাখ ইউরো (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) কমানো হয়। ফলে বর্তমানে এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১৫০ কোটি টাকা)।
এই দুই ভবনে শোবার ঘর ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি।
১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল শুরু থেকেই এই সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী ছিলেন। এটি কিনতে তিন মাস ধরে আলোচনা চলেছে। আইনজীবীরা পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বাড়ির সাবেক মালিক পিকে ও শাকির অনুপস্থিত থাকায় দরকষাকষির পর সমঝোতায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে।
মালিকানা পাওয়ার পর নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি সাজাতে চান ইয়ামাল। এ জন্য কিছু অর্থ সংস্কারকাজে ব্যয় করবেন বলে জানিয়েছে এল পাইস।
এত দামি বাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক ফুটবলারেরই নেই। কিন্তু ইয়ামালের ফুটবল প্রতিভা তাকে বিশাল অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ করে দিয়েছে।
বার্সেলোনার সঙ্গে ২০৩১ সালের জুন পর্যন্ত চুক্তি আছে ইয়ামালের। এই চুক্তিতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ইউরো (৪২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা)। চুক্তির পুরো সময় বার্সায় কাটালে ১৮ কোটি ইউরো (২৫৬৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত আয় করতে পারেন। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি থেকে বড় অংকের অর্থ তো পাবেনই।
বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, সব মিলিয়ে ইয়ামালের বছরে আয় হতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা)। এতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা পাবেন, যেখানে লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহামের মতো তারকারা আছেন।




