শেরপুরে সৈয়দ হুমায়ুন কবির বাবু (৬৪) নামে কৃষি ব্যাংকের এক নৈশপ্রহরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার সকালে সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়নের সুলতানপুর মধ্যপাড়া এলাকায় একটি গাছে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, শনিবার রাতের কোনো এক সময় তিনি গাছে উঠে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস দেন। হুমায়ুন কবীর বাবু কৃষি ব্যাংক, বাজিতখিলা ব্রাঞ্চের অস্থায়ী নৈশপ্রহরী ছিলেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির বাবু পারিবারিক কলহের জেরে মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন।
শেরপুর কৃষি ব্যাংকের আঞ্চলিক শাখার উপমহাব্যবস্থাপক (এজিএম) আনন্দ মোহন গোপ জানান, কৃষি ব্যাংকের প্রতিটি ব্রাঞ্চে তিনজন করে অস্থায়ী নাইট গার্ড রয়েছে। নিহত হুমায়ুন কৃষি ব্যাংকের সদর উপজেলার বাজিতখিলা ব্রাঞ্চের একজন অস্থায়ী নাইট গার্ড ছিলেন। রোস্টার ডিউটি অনুযায়ী শনিবার রাতে তার দায়িত্ব ছিল। রবিবার সকালে হঠাৎ করে খবর পাই, তাকে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গত চারদিন সরকারি ছুটি থাকায় ব্যাংকও বন্ধ ছিল। তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে হুমায়ুনের পরনে থাকা জ্যাকেটের পকেট থেকে ব্যাংকের গেটের চাবি বের করে পুলিশের উপস্থিতিতে ব্যাংক পরীক্ষা করি। সবকিছু ঠিকঠাক পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, নিহতের পকেটে কয়েকটি চিরকুট পাওয়া গেছে। সেখানে তার বড় ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে রিহ্যাবে রয়েছে উল্লেখ করে ১৭ হাজার টাকা বকেয়ার কথা লেখা ছিল। চিরকুটে তিনি লিখেছেন, ‘তুমি মাফ করে দিও, আমি টাকা পাঠাতে পারলাম না।’ এছাড়া পরিবারের দেনার কথাও উল্লেখ ছিল। তার মেয়ে কিছু টাকা পরিশোধ করেছেন বলেও জানা যায়।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।




