শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। পরে ধর্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। ৯ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের পলাশীকুড়া জনতা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে পোড়াগাঁও ইউনিয়ন আলেম-উলামা পরিষদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি সোমবার উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রামের মৃত শমশের আলীর ছেলে ফেরিওয়ালা ইসলাম উদ্দিন (৫৫) কসমেটিকস ও নগদ অর্থ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি বাড়ি ফিরে বিষয়টি জানালে স্বজনরা প্রথমে তাকে শেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শিশুটির জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইসলাম উদ্দিনকে আটক করে নালিতাবাড়ী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে ঘটনার প্রতিবাদ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক দরবেশ আলী। ফাতেমা জান্নাত মহিলা মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাওলানা ফখরুল ইসলাম সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ, শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, আহাম্মদ আলী, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মামুন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, মুফতি মাজাহারুল ইসলামসহ স্থানীয় আলেম-উলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। মানববন্ধন শেষে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধর্ষক ইসলাম উদ্দিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।




