শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আনসার আলী (৩০) নামে এক পাখি শিকারিকে জরিমানা করা হয়েছে। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে পৌর শহরের শেখহাটি এলাকায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক ওই পাখি শিকারিকে এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাখি শিকারি আনসার শেখহাটি এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে শেরপুর পৌর শহরের শেখহাটি এলাকায় আনসার আলী নামে একজন পাখি শিকারী ফাঁদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন- এমন তথ্য পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল হতে চারটি ফাঁদ ও দুইটি শালিকসহ পাখি শিকারি আনসার আলীকে আটক করা হয়। পরে তাকে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর ৩৮ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একহাজার অর্থদণ্ড দেয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করেন শেরপুর বনবিভাগের ওয়াইল্ড লাইফ রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল আমিন। ওইসময় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিতরণ করা হয়।

সেভ ওয়াইল্ডলাইফ এন্ড ন্যাচার (সোয়ান) এর শেরপুরের আহবায়ক নাঈম ইসলাম ও সদস্য সচিব জাহিদুল হক মনির বলেন, পাখিশিকারিরা বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন পাখি নিধন করছেন। এতে একদিকে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ বাড়ছে। ১৯৭৪ সালে বন্য প্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক বছর জেল, এক লাখ টাকা দণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত। প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদেরকেও পাখি নিধনের কুফল সাধারণ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবা হক বলেন, পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এমন অভিযান অব্যহত থাকবে।




