শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অসহায় ও হতদরিদ্র ছিন্নমূল মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল। পবিত্র ঈদ-উল-আজহার পরদিন ৮ জুন রবিবার সকাল থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের হলদীগ্রাম, নয়া রাংটিয়া, ভারুয়া, পূর্ব গজারীকুড়াসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্ল ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারি ছিন্নমূল অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের লোকজনের হাতে প্রায় ২ কেজি করে কোরবানির মাংস পৌঁছে দেন।

এদিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল প্রতিটি ছিন্নমূল পরিবারের সদস্যদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজ হাতে তুলে দেন কোরবানির মাংস। যেসব হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যদের ভাগ্যে জুটেনি কোরবানির মাংস বা অন্য কোন উপায়ে মাংস সংগ্রহের কোন সুযোগ নেই এমন প্রায় ২০০ পরিবারের লোকজনের হাতে কোরবানির গোস্ত পৌঁছে দেন এবং সকলের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ইউএনওর দেওয়া কোরবানির মাংস পেয়ে হলদিগ্রামের পঙ্গু রহমত আলীসহ গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা আনন্দে আত্মহারা। তারা বলেন, আমাদের কথা এর আগে আর কেউ ভাবেনি। কিন্তু এবার ইউএনও স্যার যেইভাবে বাড়ি বাড়ি এসে মাংসের প্যাকেট হাতে দিলেন, এভাবে আগে কেউ মাংস দিতে বাড়ি বাড়ি আসেনি। আমাদের ভাগ্যেও জুটেনি কোরবানির মাংস। এবারই প্রথম তারা পেলেন কোরবানির মাংস। শুধু তাই নয় ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ঝিনাইগাতীতে যোগদান করেন। তখন থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পাহাড়ি ঢলের বিধ্বস্ত গৃহহীনও খাদ্য সংকটে থাকা পরিবারের লোকজন খুজে খুঁজে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্য তুলে দেন। শীতে শীতার্তদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাদ্যসামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেলের এসব মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন, সৃজনশীল মানুষের কাছে বেশ প্রশংসিত হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে ইউএনও মো. আশরাফুল আলম বলেন, ঈদের আনন্দ প্রান্তিক ও অসহায় মানুষদের মাঝেও পৌঁছে, সেটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে কেউ যেন এ উৎসবের আনন্দ থেকে বাদ না থাকে । তিনি বলেন, এ চিন্তা মাথায় রেখে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদের কাছ থেকে এসব কোরবানির মাংসের ব্যবস্থা করে তা বিতরণ করা হয়েছে।




