স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত ২ প্রার্থী প্রাণনাশের আশঙ্কার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৭ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন পাল্টা অভিযোগ তুলে পৃথক পৃথকভাবে ওই সংবাদ সম্মেলন করেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ২ প্রার্থীর এমন অভিযোগ ও আশঙ্কার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ সকল প্রার্থীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে থাকে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের গৃর্দানারায়ণপুর মহল্লার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেরপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। ওইসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে যেকোন সময় তিনি গুম বা জীবননাশের আঘাতের আশঙ্কা করে নিজে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, আমি যেখানেই যাই সেখানেই ডিবি পুলিশ সাইরেন বাজিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরী করছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত আমার নেতা-কর্মীদের নামে ১৭ টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিনা পরোয়ানায় আমার কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তারা প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমার প্রতিটি পথসভায় ১৪৪ ধারা জারি করে আমার প্রচার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি নেতা-কর্মীসহ আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার হুমকী দিচ্ছে পুলিশ। আমি আশঙ্কা করছি, ২৪ ডিসেম্বরের আগে ডিবি পুলিশ আমাকে গুম করতে পারে, এমনকি আমি খুনও হতে পারি। যদি এমন কোন ঘটনা ঘটে তার জন্য পুলিশ দায়ী থাকবে। তিনি বলেন, যত বাধাই আসুক আমি নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একা হলেও মাঠে থাকবো। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে রির্টানিং অফিসরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার মিলছে না। তিনি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরাপত্তাসহ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও পথসভা করার সুযোগ দেওয়ার আহবান জানান। সংবাদ সম্মেলনে জেলা বিএনপি এবং শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপি’র নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপি প্রার্থীর এমন অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে করা বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ সঠিক নয়। প্রত্যেক প্রার্থীর নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ দেখে থাকে। তাই ডিবি পুলিশও তার নিরাপত্তার বিষয়টি দেখে থাকে। তাকে (বিএনপি প্রার্থী রুবেলকে) আটক বা গুম করার কোন ধরনের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, বিএনপি প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলনের ২ ঘন্টার ব্যবধানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন। শহরের সজবরখিলা এলাকার নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়ে অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। সবসময় তার গাড়ীতে সন্ত্রাসীদের নিয়ে চলাফেরা করেন। ইতোমধ্যে ঝিনাইগাতীর ৪টি নির্বাচনী ক্যাম্পে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা ককটেল বি¯েফারণ ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তারা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গত নির্বাচনেও তারা ৪৮টি কেন্দ্রে নাশকতা সৃষ্টি করেছিলো। কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিলো, আওয়ামী লীগ নেতার রগ কেটে দিয়েছিলো। তিনি বলেন, কেকেরচর ইউনিয়নে আমার বাড়ী। ওই ইউনিয়নে কয়েকজন বিএনপি নেতা রয়েছে, যারা সন্ত্রাস-নাশকতার মামলার আসামী। তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। বিএনপি-জামায়াত জোট সন্ত্রাসীরা যেকোন আমার ওপর জঙ্গি হামলা চালাতে পারে। এজন্য আমি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি। দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ফজলুল হক চাঁন বলেন, সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রার্থী রুবেল পুলিশের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন, তার কোন ভিত্তি নেই। পুলিশ সুনির্দিষ্ট মামলার আসামী ছাড়া কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করছে না। যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপি’র রুবেল এমন কোন প্রার্থী নয় যে, পুলিশের সহায়তা নিয়ে তার বিরুদ্ধে লড়তে হবে। ২০০৮ সালে তাকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটে হারিয়েছিলাম। গত নির্বাচনেতো সে আসেইনি। এবারও আমার বিপুল ভোটে বিজয় হবে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে তিনি এখন আবোল-তাবোল বকছেন। সংবাদ সম্মেলনে জেলা কৃষক লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির, শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, ঝিনাইগাতী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু, শ্রীবরদী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, যুগ্ম আহবায়ক লিয়াকত হোসেন লিটন, ইউপি সদস্য এডিএম শহীদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মেরাজ উদ্দিন চৌধুরী বিএনপি প্রার্থীর সাংবাদিক সম্মেলনের পাল্টা অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। উভয় সংবাদ সম্মেলনে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।




