স্টাফ রিপোর্টার ॥ নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী গ্রামের মাদ্রাসা ছাত্রী রিমা আক্তারকে (১৩) আঘাতে ও গলা টিপে হত্যার আলামত পেয়েছেন ময়নাতদন্ত সম্পন্নকারী চিকিৎসকরা। ৪ মে বুধবার এমনই মতামত দিয়ে ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সাক্ষর করেছেন জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত ওই বোর্ডের সদস্যরা।
জেলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাঃ মোবারক হোসেন জানান, রিমার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে বুধবার তিনিসহ বোর্ডের অপর ২ সদস্য যৌথ সাক্ষর করেছেন। ময়নাতদন্তে রিমার মাথায়, গলায় ও দুই হাতে আঘাতের জখম পাওয়া গেছে। তাকে আঘাতসহ টুটি চিপে হত্যারই আলামত পাওয়ায় ওই সংক্রান্তে মতামত দিয়ে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশের তরফ থেকে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিজিস্টের ধর্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা ও রিপোর্ট চাওয়া হয়নি। সংগত কারণে সে সম্পর্কে মতামতও দেওয়া হয়নি। তবে বয়সের তুলনায় ভিকটিমের যৌনাঙ্গের অবস্থা অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৯ এপ্রিল শুক্রবার বিকেলে বানেশ্বর্দী গ্রামের কৃষক রোহান মিয়ার কন্যা ও স্থানীয় দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী রিমা আক্তারের লাশ পাওয়া যায় বসতঘরের ধর্নায় শাড়ী দিয়ে গলায় পেচানো অবস্থায়। তবে তার হাটু বেঁকে পা দুটো মাটিতে ঠেকানো অবস্থায় পাওয়ায় বিষয়টি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়। এছাড়া রিমার মাথায়, গলায় ও দুই হাতে বেশ কয়েকটি জখম দেখা যাওয়ায় সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়। ওই ঘটনায় প্রতিপক্ষ জোসনাবালী, লিটন ড্রাইভার, আব্দুর রহিম ও লেটু মিয়াসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে নকলা থানায় অভিযোগ দায়ের হলেও পুলিশ তা আমলে না নিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করে। ফলে ওই ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা তা নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সেইসাথে শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়।
এ ব্যাপারে নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম হায়দার বুধবার বিকেলে জানান, এখনও মাদ্রাসা ছাত্রী রিমার ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে হত্যার আলামত পেলে অবশ্যই সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হওয়ায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে।




