মোঃ মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) : নকলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮৬টি শিক্ষক পদ দীর্ঘ দিন যাবৎ শূন্য রয়েছে। এগুলোর মধ্যে ২৭টি প্রধান শিক্ষক এবং ৫৯টি সহকারী শিক্ষক পদ। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে প্রশাসনিক কাজ চালানো হচ্ছে। সহকারী শিক্ষক কম থাকায় কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়েই কোনোক্রমে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। এতে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, বলেছেন শিক্ষানুরাগীরা।
একাধিক সহকারী শিক্ষকরা জানান, প্রধান শিক্ষকদের সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করতে জেলা/উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজে দৌড়াদৌড়িতে সময় যায়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা ওইসব কাজে গেলে অন্য সহকারি শিক্ষকরা ঠিকমত পাঠদান কার্যক্রম চালাতে গড়িমসি করেন। ফলে সঠিকভাবে পাঠদান হয় না।
নারায়নখোলা দক্ষিণ, তারাকান্দা, উরফা, হাসনখিলা, পিছলাকুড়ি, রিহিলা, ছাতুগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ অনেকেই বলেন একদিকে প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরা পিটিআই, মাতৃত্বকালীন ও নৈমত্তিক ছুটিতে থাকলে পুরোপুরিভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয় না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং ব্যবস্থা খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাছাড়া সহকারী শিক্ষকরা সমমর্যাদার হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের নির্দেশনা মানতে প্রায়শই অনিহা প্রকাশ করেন। ফলে উপজেলার সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত উপজেলার ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭-১৫ বছর যাবৎ সুনামের সাথে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসলেও বেতনভূক্ত বা সরকারি হয়নি। ফলে সেই সব বিদ্যালয়েও পাঠদান স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়াহেদ আলী জানান, শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দিতে উর্ধ্বতন কতৃপকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। যেসব বিদ্যালয় এখনও সরকারি বেতনভূক্ত হয়নি সেসব বিদ্যালয়ের বিষয়ে সরকারি সংশ্লিষ্ট দফতর আগত। এ বিষয়ে শিক্ষাবান্ধব সরকার অবশ্যই সুষ্ঠু সমাধান দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।




